বাংলাদেশে চীনা ভ্যাকসিন অনুমোদন, ভারতে জরুরি ওষুধ পাঠাতে চায় ঢাকা
বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন চীনা কোম্পানি সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা দেশে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান এ খবর জানিয়ে বলেন, এই টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।
এর আগে রাশিয়ার 'স্পুটনিক ভি' টিকা দেশে জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দেয় সরকার।
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদন করা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে দেশে করোনার টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে টিকার নতুন সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার রাশিয়ার 'স্পুটনিক-ভি' ও চীনের সিনোফার্মের টিকা আনার উদ্যোগ নেয়।
ভারতে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
ওদিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটিতে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাতে চায় বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ১০ হাজার ইনজেক্টেবল অ্যান্টি-ভাইরাল-ওরাল অ্যান্টি-ভাইরাল, ৩০ হাজার পিপিই এবং কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এ সময় করোনা মহামারিতে ভারতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে এবং এই সংকটময় মুহূর্তে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সহমর্মিতা জানাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্দশা নিরসনের জন্য বাংলাদেশের মানুষের প্রার্থনা ভারতের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে প্রতিটি সম্ভাব্য উপায়ে সহায়তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ।
ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু গণস্বাস্থ্যের
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা শুরু করেছে। এই চিকিৎসা সেবার জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকাকে নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধানমন্ডিস্থ নগর হাসপাতাল কেন্দ্র থেকে তিনটি দল এই সেবা প্রদান করবে। আইসিইউ সুবিধাযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সে প্রতিটি দলে থাকবে সিনিয়র এবং জুনিয়র চিকিৎসক, নার্স, প্যাথোলজি টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং স্বেচ্ছাসেবক। দলটির সাথে যাবে একটি মোটরসাইকেল এবং পোর্টেবল এক্সরে মেশিন যা একটি দেড়টনি ট্রাকে পরিবহন করা হবে।
গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরাসরি বা এলাকার কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে থেকে ফোন কল পেলে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দলটি উপস্থিত হবে নির্দিষ্ট বাসায়। করোনার স্যাম্পল সংগ্রহ এবং এক্সরে করে ক্যাসেট নিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করা হবে।
প্রয়োজন হলে প্লাজমারও ব্যবস্থা করবেন এবং তা বাসাতেই দেয়া হবে। তীব্র করোনা রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন