বাংলাদেশের টিকা কূটনীতির সমালোচনা জিএম কাদের ও চরমোনাই পীরের
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এবার সরকারের টিকা কূটনীতির অদূরদর্শিতার সমালোচনায় মুখ খুলেছেন।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, "কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে দেশে এখনো কয়েক লাখ মানুষ অস্থিরতার সাথে অপেক্ষা করছেন। এখন প্রমাণ হলো বিকল্প উৎস না রেখে শুধু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আন্তর্জাতিক টিকা কূটনীতিতে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিল বাংলাদেশ।"
জিএম কাদের বলেন, "রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’ এবং চীনের সিনোফার্মে ভ্যাকসিন আমদানি ও যৌথ উৎপাদনের পাশাপাশি ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড আমদানিতে প্রচেষ্টা থাকতে হবে বাংলাদেশের। করোনা টিকা নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কি-না সেটা স্পষ্ট নয়। টিকার বিষয়ে জনগণ বিস্তারিত জানতে চায়।"
করোনার টিকা সংকট প্রসঙ্গে একইরকম অভিযোগ করেছেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের অবহেলা বা অপরিণামদর্শী নীতির কারণে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ‘একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে সংকট তৈরি করেছে।'
সম্প্রতি নিজ দেশের চাহিদার কথা বলে ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেবার ফলে বাংলাদেশকে চীন ও রাশিয়ার দ্বারস্থ হতে হয়েছে। যদিও চীন গতবছর বাংলাদেশেকে সর্বপ্রথম টিকা অনুদান দেবার আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পায়নি। এবার বিপদে পড়ে চীনের সাথে দেনদরবার করে টিকা প্রাপ্তির আশ্বাস মিলেছে। সে প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন গতকাল বৃহস্পতিবার জরুরিভাবে বাংলাদেশে চীনা টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
এর আগে চীনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাকিস্তান সহ দক্ষিণ এশিয়ার ছ’টি দেশে টিকার মজুদ গড়ে তোলার জন্য একটি জোট করেছে।
এ ছাড়া, দেশে টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার। এরইমধ্যে সাতটি দেশকে চিঠি দিয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'অক্সফোর্ডের টিকার মজুদ আছে কিন্তু প্রয়োগ করছে না- এমন সাতটি দেশকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। টিকা ফেলে রাখলে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং ব্যবহার না করলে সেগুলো যাতে আমাদের দেওয়া হয়, সেজন্য তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কারণ দেশে প্রথম ডোজ গ্রহণকারী একটি বড় অংশের দ্বিতীয় ডোজের টিকার মজুদ নেই। সুতরাং কিনে কিংবা যে কোনো প্রক্রিয়ায় হোক না কেন, আমরা টিকা পেতে চাই।'
এ প্রসঙ্গে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, রাশিয়া ও চীনের টিকার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির আলোকে মে মাসে রাশিয়া থেকে টিকা আসবে। এরপর চীনের টিকাও আসবে। একই সঙ্গে দুটি দেশের টিকার উৎপাদনও হবে বাংলাদেশে। সুতরাং ভবিষ্যতে টিকা নিয়ে আর সংকটে পড়তে হবে না।
উল্লেখ্য, ক্রয় এবং উপহার মিলিয়ে এ পর্যন্ত এক কোটি তিন লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা কোভিশিল্ড হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলে গতকাল (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ৮৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রথম ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য আরও ৩০ লাখ ১০ হাজার ৯৬২ ডোজ টিকার প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারের হাতে মজুদ আছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা। আর ঘাটতি রয়েছে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩১২ ডোজ টিকার। মজুদ টিকা দিয়ে আগামী ১০ থেকে ১২ দিন চলতে পারে। এরপর টিকা না এলে ১৩ লাখের বেশী মানুষ নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাবেন না।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন