সব দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হওয়া উচিত: সিইসি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i98006-সব_দলের_ঐক্যমত্যের_ভিত্তিতে_নতুন_নির্বাচন_কমিশন_গঠন_হওয়া_উচিত_সিইসি
দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন হওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১ ১৫:৪৮ Asia/Dhaka
  • প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা
    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা

দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন হওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

গতকাল কমিশনের এক সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘পরবর্তী কমিশন গঠন করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অবশ্যই এটা হওয়া উচিত। আমি এটাকে সমর্থন করি। যেন নতুন কমিশন সবার সমর্থনযোগ্য হয়-সেরকম একটি কমিশন হওয়া উচিত।’

ঐক্যমত কীভাবে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। গত বছর রাষ্ট্রপতি সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে কথা বলেছিলেন। এটা রাষ্ট্রপতির বিষয়। ইসির কিছু করণীয় নেই। 

কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন তৈরি করে সংসদ। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনগুলো হয়। তাদের কাছ থেকে এ রকম কোন ইঙ্গিত আসেনি যে, আইন তৈরি করতে হবে, কি হবে না। তারা বলেন সাংবিধানিক যে ব্যবস্থা আছে সেই ব্যবস্থা অনুযায়ী করার কথা। আইন করার বিষয়ে ইসির সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি। 

আইন হলেই আস্থার সংকট দূর হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কী ধরনের আইন হবে-তার ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে আগে বলা যাবে না। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন মোটেই অনাস্থার জায়গা নয়। জনগণের আস্থা কমিশনের ওপর নেই- এ কথা কোনভাবেই বলা যাবে না। কারণ জনগণ বলেনি যে আস্থা নেই। রাজনৈতিক দলের লোকরা এটা বলেন। অনেক সময় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তারা করেন না। অথচ তারা বলেন যে নির্বাচনে জনগণের আস্থা নেই। জনগণের আস্থা যদি না-ই থাকতো তাহলে ভোটে উপচে ভরা ভিড়, লম্বা লাইন, লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেয়। ৬০-৮০ শতাংশ ভোট পড়ে। এটা কী আস্থার জায়গা নয়? জনগণের আস্থা অবশ্যই আছে। তারা অবশ্যই ভোট দিতে যায়। 

১০ পৌরসভায় ভোট ২ নভেম্বর 

এ ছাড়া দেশের ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন আগামী ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী- সপ্তম ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১১ অক্টোবর, বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর, আপিল নিষ্পত্তির ১৬ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ১৭ অক্টোবর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ অক্টোবর এবং ভোট-গ্রহণ ২ নভেম্বর। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সপ্তম ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের ভোট-গ্রহণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী সপ্তাহে কমিশনের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় পরবর্তী নির্বাচনের তফসিলের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। 

যেসব পৌরসভায় ভোট-গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে-দশটি জেলায় ১০টি পৌরসভায় এ ভোট-গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নরসিংদী জেলার ঘোড়াশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ফেনীর ছাগলনাইয়া, খাগড়াছড়ির রামগড়, বগুড়ার সোনাতলী, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, নীলফামারীর ডোমার, নড়াইলের লোহাগড়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এসব পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জানুয়ারিতে জেলা পরিষদের নির্বাচন 

এদিকে,  আগামী জানুয়ারি মাসে দেশের জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। জানুয়ারির দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন করা হবে। 

কমিশনের সচিব হুমায়ুন কবির খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়া গেছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ সহ স্থানীয় পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাই জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার। ফলে এই ভোট গুলোর শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গেলে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হবে। যে কারণে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিষদের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারি মাসে এর ভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। #