ইসরাইলের ওপর প্রতিরোধ-শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ ও লেবাননে হামলার হুমকি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i138958-ইসরাইলের_ওপর_প্রতিরোধ_শক্তিগুলোর_ক্রমবর্ধমান_চাপ_ও_লেবাননে_হামলার_হুমকি
গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ যতই তীব্র হচ্ছে ততই দখলদার, শিশু-ঘাতক ও বর্ণবাদী এই সন্ত্রাসী শক্তির নানা অবস্থানে, বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর, এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরে বাড়ছে প্রতিরোধ-শক্তিগুলোর হামলা।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ২৪, ২০২৪ ১২:১২ Asia/Dhaka
  • ইসরাইলের ওপর প্রতিরোধ-শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ ও লেবাননে হামলার হুমকি

গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ যতই তীব্র হচ্ছে ততই দখলদার, শিশু-ঘাতক ও বর্ণবাদী এই সন্ত্রাসী শক্তির নানা অবস্থানে, বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর, এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরে বাড়ছে প্রতিরোধ-শক্তিগুলোর হামলা।

এ অবস্থায় ইসরাইলের পক্ষ থেকে লেবাননে সর্বাত্মক হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকিও লক্ষ্যনীয়। ২৬১ দিনের এই যুদ্ধে ইসরাইলের জাহাজ ও বন্দরগুলো এখন প্রতিরোধ শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান হামলার শিকার হচ্ছে।

সম্প্রতি ইয়েমেন ও ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা গাজার বেসামরিক নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হাইফা বন্দরে চারটি জাহাজে ও ভূমধ্যসাগরে আরও একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যে জাহাজটি হাইফা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।  ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারা আলাদাভাবে ইসরাইলে এইলাত বন্দরেও হামলা চালিয়েছে। ইরাকি প্রতিরোধ গ্রুপগুলো ইসরাইলের অন্যান্য অঞ্চলেও হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। এ ছাড়াও ইরাকি প্রতিরোধ গ্রুপগুলো মার্কিন সেনা-ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সহায়তার প্রতিশোধ হিসেবে। 

এইসব হামলা এমন সময় চালানো হল যখন এর আগে ইরাক ও ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরব সাগরে ট্র্যান্স ওয়ার্ল্ড ন্যাভিগেটর নামের একটি জাহাজে ও লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আইজেনহাওয়ারে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিজাইল নিক্ষেপ করেছে। 

গত ১২ জানুয়ারি ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন শহরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। ফলে ব্রিটেন ও মার্কিন জাহাজগুলোও ইয়েমেনি হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।  ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন বলে আসছে গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগরে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত ও ইসরাইলগামী সব জাহাজে হামলা চালাবে ইয়েমেনের গণ-বাহিনী। 

সম্প্রতি ওই ঘোষণার আলোকে ইয়েমেনি বাহিনী লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরাইলের একটি মালবাহী জাহাজ ও এর নাবিকদের আটক করে। 

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ইয়েমেনি নিষেধাজ্ঞা শুরুর ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৯০টিরও বেশি সামরিক ও বাণিজ্য জাহাজ ইয়েমেনের উপকূলে আক্রান্ত হয়েছে। 

দখলদার ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোতে ইরাকি ও ইয়েমেনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর যৌথ অভিযান এ অঞ্চলে যুদ্ধের সমীকরণে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ। এর বাইরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিরোধ গ্রুপগুলো দুই হাজারেরও বেশি প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যাতে ইসরাইল গাজায় আগ্রাসন থামাতে বাধ্য হয়। আর এইসব হামলা লেবাননে ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবেলায় কার্যকর প্রতিরোধ-ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।

ইসরাইল লেবাননকে দ্বিতীয় গাজায় পরিণত করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই এটা স্পষ্ট হিজবুল্লাহ ও লেবাননের ওপর ইসরাইলের হামলার হুমকিকে প্রতিরোধ শক্তিগুলো নিজেদের ওপর হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে। লেবানন ও হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলের হামলা শুরু হলে প্রতিরোধের নতুন নতুন ফ্রন্টও খুলে যেতে পারে যা হয়তো ইসরাইল কল্পনাও করছে না। কোনো কোনো বিশ্লেষক এ হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন যে ইসরাইল হিজবুল্লাহর মত শক্তিশালী আন্দোলনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে ইসরাইলের গোটা মানচিত্রই মুছে যেতে পারে। হিজবুল্লাহ সম্প্রতি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। আর এ থেকে বোঝা যায় এইসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ইসরাইলের প্রতিটি শহর হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে এবং হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা হবে কমপক্ষে পাঁচ লাখ। হিজবুল্লাহ বলেছে, এক লাখ সেনা ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হিজবুল্লাহর খাতায় নাম লিখিয়েছে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমদের ফেসবুক পেইজে  লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।