শহীদ সন্তানের তহবিল ইরানের প্রতিরক্ষায় দান করলেন শোকাহত পিতা-মাতা
https://parstoday.ir/bn/news/event-i150364-শহীদ_সন্তানের_তহবিল_ইরানের_প্রতিরক্ষায়_দান_করলেন_শোকাহত_পিতা_মাতা
ইরানের ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনে শহীদ হওয়া এক কিশোরের শোকাহত পিতা-মাতা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সঞ্চিত তহবিল দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দান করেছেন। এই তহবিল অবৈধ ইসরাইলি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হবে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১২, ২০২৫ ১৬:৩২ Asia/Dhaka
  • ছবিতে এহসান কাসেমির বাবা (ডান থেকে দ্বিতীয় )
    ছবিতে এহসান কাসেমির বাবা (ডান থেকে দ্বিতীয় )

ইরানের ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনে শহীদ হওয়া এক কিশোরের শোকাহত পিতা-মাতা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সঞ্চিত তহবিল দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দান করেছেন। এই তহবিল অবৈধ ইসরাইলি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হবে।

কোম প্রদেশের টিভি চ্যানেলে সরাসরি প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী শহীদ এহসান কাসেমির পিতা বলেন, পরিবারের এই দান—যার মূল্য কয়েক হাজার ডলার—প্রাথমিকভাবে তার শহীদ পুত্রের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে, তার শাহাদাতের পর পরিবার এই তহবিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয়।

কাসেমি আশা প্রকাশ করে বলেন,  “এই উপহার একটি বা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তরিত হয়ে তেল আবিবের হৃদয়ে আঘাত করবে এবং এই দুষ্ট ইহুদিবাদীরা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করবে।”

তিনি যোগ করেন, "আমাদের লক্ষ্য শহীদদের রক্তের ছোট্ট একটি ঋণ শোধ করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।"

২০ জুনের প্রথম প্রহরে ইসরাইলি হামলায় কোমের সালারিয়েহ জেলার একটি আবাসিক ভবনে এহসান শহীদ হন। এই চারতলা ভবনটিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ ইজাদি বাস করতেন, তিনিও ইসরাইলি আগ্রাসনে শহীদ হন। 'হাজ রমজান' নামে পরিচিত ইজাদি—আইআরজিসি কুদস ফোর্সের ফিলিস্তিন শাখার প্রধান ছিলেন।

১৩ জুন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক আগ্রাসন চালায়, যাতে অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই আগ্রাসনে যোগ দেয় এবং জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র নিরোধক চুক্তি (এনপিটি)-এর গুরুতর লঙ্ঘন করে তিনটি ইরানি পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে।

জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চল জুড়ে কৌশলগত স্থানগুলোর পাশাপাশি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানে, যা পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। ২৪ জুন, ইসরাইল কোনো শর্ত ছাড়াই একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যা শক্তিশালী ও অটল ইরানি প্রতিশোধের মুখে তাদের পরাজয়ের ইঙ্গিত বহন করে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।