নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের অগ্রগতি 'অলৌকিক, অসাধারণ': মোহাম্মাদ ইসলামি
-
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এএইওআই'র প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা এএইওআই'র প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন যে শত্রুদের সর্বাত্মক চাপ সত্ত্বেও দেশটি পারমাণবিক শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে সফল হয়েছে।
শুক্রবার মাশহাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশে মোহাম্মাদ ইসলামি বলেন,শত্রুরা সব সময় একটি ধারাবাহিক কৌশল বজায় রেখেছে। আর তা হলো বাইরে থেকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা এবং দেশকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলা।
তিনি বলেন,'অন্য কথায় তারা ধারাবাহিকভাবে 'বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ এবং ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার নীতি' অনুসরণ করেছে, তাদের হাতে থাকা সমস্ত হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার সরঞ্জাম ব্যবহার করে। তবে, আমাদের অগ্রগতি অসাধারণ হয়েছে।'
তিনি আরো বলেন যে বিশ্বব্যাপী বলদর্পী শক্তিগুলো ইরানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় কারণ তেল ও গ্যাসের মজুদের দিক থেকে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ, যেখানে বিশাল খনিজ সম্পদ রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এই অঞ্চলে প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং প্রচুর অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে।
ইরানের পরমাণু প্রধান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তেহরান ধারাবাহিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনও ইচ্ছা নেই এবং গত ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়েছে, যার ফলে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে যা আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন জেসিপিওএ নামে পরিচিত।
সালামি এ সম্পর্কে বলেন, 'কিন্তু তারা জেসিপিওএ সহ্য করতে পারেনি।' তিনি ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফাভাবে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ করে বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দেশকে থামিয়ে দিতে এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য নিষেধাজ্ঞা তাদের প্রধান উপায়।
জেসিপিওএ ছিল ২০১৫ সালে ইরান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য এবং জার্মানির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির অধীনে ইরান সরল বিশ্বাসে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তার পারমাণবিক কর্মসূচির উপর কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েছিল।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।