জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157132-জেনেভায়_ইরান_যুক্তরাষ্ট্রের_মধ্যে_দ্বিতীয়_দফার_পরোক্ষ_পরমাণু_আলোচনা_অনুষ্ঠিত
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের কনস্যুলেট জেনারেলে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শেষ হয়েছে।
(last modified 2026-02-17T14:39:25+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ২০:২৮ Asia/Dhaka
  • জেনেভায় ওমানের কনস্যুলেট জেনারেল
    জেনেভায় ওমানের কনস্যুলেট জেনারেল

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের কনস্যুলেট জেনারেলে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শেষ হয়েছে।

মাসকাটে আগের দফার মতোই আজ (মঙ্গলবারের) আলোচনার মূল বিষয় ছিল পারমাণবিক ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

আলোচনা শুরুর ঠিক আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, “আলোচনা যে পারমাণবিক ইস্যুকেই কেন্দ্র করে হবে, তা স্পষ্ট।”

তিনি জানান, আলোচনার কাঠামো ৬ ফেব্রুয়ারি মাসকাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মতোই হবে, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জোর দিয়ে বলেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সংরক্ষণ করা একটি মৌলিক নীতি।

ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি। তার সঙ্গে ছিলেন রাজনৈতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী মাজিদ তাখতে-রাভাঞ্চি, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি, অর্থনৈতিক কূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী হামিদ কানবারি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি।

এ দফায় প্রযুক্তিগত, আইনি ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও ইরানের আলোচক দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

জেনেভায় পৌঁছানোর পরপরই আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করা তেহরানের জন্য সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাতে 'বাস্তবধর্মী প্রস্তাব' নিয়ে তিনি জেনেভায় এসেছেন।

আলোচনার আগে আইএইএ প্রধানের সঙ্গে বৈঠক

নির্ধারিত বৈঠকের একদিন আগে সোমবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেন আরাকচি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সুরক্ষা চুক্তির কাঠামোর মধ্যে আইএইএর সঙ্গে তেহরানের সহযোগিতা সংক্রান্ত কারিগরি বিষয় এবং এ বিষয়ে ইরানি পার্লামেন্টের আইনের প্রসঙ্গ আলোচনা হয়। ওই আইনে সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতাকে ইরানের অধিকার নিশ্চিতকরণ বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার সঙ্গে শর্তযুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরানের কারিগরি অবস্থানও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

ওমানের মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক তৎপরতা

পরোক্ষ আলোচনায় ওমান আগের মতোই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেনেভায় অবস্থানকালে সোমবার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গেও বৈঠক করেন আরাকচি। সেখানে ইরানের আলোচনার মূল বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন।

জেনেভা সফরে নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ও বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক কূটনৈতিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাসকাটে আরাকচি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। বর্তমান দফা সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান ও নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ারসহ অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানুয়ারির শেষদিকে ট্রাম্প ইরানের দিকে 'আরেকটি বিশাল নৌবহর' এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তি না হলে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো হামলার চেয়েও 'অনেক কঠোর' পরিণতি হতে পারে।

তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন ঘটলে তারা কঠোর জবাব দেবে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কাতারে অবস্থিত ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ঘাঁটি আল উদেইদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৭