জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157618-জর্ডানে_মার্কিন_ঘাঁটিতে_৩০০_মিলিয়ন_ডলারের_রাডার_ধ্বংসের_বিষয়টি_নিশ্চিত_করল_যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরান জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস করেছে, যার মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
(last modified 2026-03-07T13:05:42+00:00 )
মার্চ ০৭, ২০২৬ ১৮:৫৯ Asia/Dhaka
  • জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংস
    জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরান জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস করেছে, যার মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন কোম্পানি RTX Corp.-এর তৈরি AN/TPY-2 রাডার এবং এর সহায়ক সরঞ্জাম যুদ্ধের প্রথম দিকেই ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করে। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ধ্বংসের ঘটনা নিশ্চিত করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাডার ধ্বংস হওয়া অঞ্চলের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাডারটি ধ্বংস হওয়ার ফলে এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের দায়িত্ব আরও বেশি করে প্যাট্রিয়ট (Patriot) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়বে। কিন্তু প্যাট্রিয়টের PAC-3 ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ অনেক সীমিত। ফলে উন্নত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও কিছু মোতায়েন আছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্টাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি THAAD ব্যাটারির দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রাডারের মূল্যই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

সিএসআইএস-এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, “এই ধরনের কৌশলগত সম্পদ খুবই সীমিত, তাই এর ক্ষতি বড় ধরনের ধাক্কা।”

তিনি আরও বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর বর্তমানে যে আটটি থাড (THAAD) ব্যাটারি রয়েছে, সেটি ২০১২ সালে নির্ধারিত প্রয়োজনীয় নয়টি ব্যাটারির লক্ষ্য থেকেও কম। ফলে অতিরিক্ত বা বিকল্প TPY-2 রাডার হাতে নেই বললেই চলে।

এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারে স্থাপিত AN/FPS-132 নামের আরেকটি রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরেতে অবস্থিত James Martin Center for Nonproliferation Studies-এর গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই রাডারটি স্থির অবকাঠামো এবং দূর থেকে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে তা সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভুলতা দেয় না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তাদের হামলায় ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার শহীদ হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর জবাবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

ইরানের এসব পাল্টা হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে THAAD ও PAC-3-এর মতো উন্নত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুতই বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৭