ইরানের হামলায় হাইফা তেল শোধনাগার ও মার্কিন পঞ্চম নৌ-বহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157914-ইরানের_হামলায়_হাইফা_তেল_শোধনাগার_ও_মার্কিন_পঞ্চম_নৌ_বহরে_ব্যাপক_ক্ষয়ক্ষতি
পার্স-টুডে: ইরান ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা অভিযানের ৬৩ ও ৬৪তম পর্ব সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে। 
(last modified 2026-03-21T09:45:05+00:00 )
মার্চ ১৯, ২০২৬ ২০:০২ Asia/Dhaka
  • ইরানি হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন শেয়ারযুক্ত গ্যাস স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র (উপগ্রহ থেকে তোলা)
    ইরানি হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন শেয়ারযুক্ত গ্যাস স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র (উপগ্রহ থেকে তোলা)

পার্স-টুডে: ইরান ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা অভিযানের ৬৩ ও ৬৪তম পর্ব সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে। 

'ওয়াদেহ সাদিক বা সত্য-প্রতিশ্রুতি-চার' শীর্ষক অভিযানের ৬৩ তম পর্বে এ অঞ্চলে কয়েকটি মার্কিন তেল-স্থাপনায় আঘাত হানা হয় কাতারের সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর। ইরান আগেই হুশিয়ারি দিয়েছিল যে তার তেল-গ্যাস বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোয় হামলা চালানো হলে এ অঞ্চলে মার্কিন শেয়ার বা স্বার্থ-যুক্ত একই ধরনের স্থাপনাগুলোয় হামলা চালানো হবে। ইরানি পাল্টা হামলায় এ অঞ্চলে মার্কিন শেয়ারযুক্ত কয়েকটি তেল-গ্যাস স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।

মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুরা আবারও ইরানের অর্থনৈতিক বা জ্বালানো অবকাঠামোয় কোনও হামলা চালালে ইরানের পরবর্তী পাল্টা হামলায় আরও কঠোর আঘাত হেনে শত্রুদের ও তাদের সহযোগীদের সব তেল-স্থাপনা ও গ্যাস স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হবে বলে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর ও চরম হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। 

ইরানি এই প্রতিশোধমূলক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের দক্ষিণ-পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে আর হামলা চালাবে না। 

ইরানি প্রতিশোধমূলক হামলার ৬৪তম পর্ব আজ ফার্সি ১৪০৪ সালের শেষ বৃহস্পতিবার খুব ভোরে সম্পন্ন করা হয় 'ইয়া (ফাতিমা) জাহরা সা.' শীর্ষক পবিত্র শ্লোগান দিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হেনে। এই পর্বের হামলার জোয়ারগুলোর টার্গেট ছিল ইসরায়েল তথা অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চল ও মধ্য অঞ্চলের মধ্যবর্তী অঞ্চলের কিছু সামরিক স্থাপনা ও অবস্থান। এইসব স্থাপনা ও অবস্থানের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি সেনাদের প্রধান কিছু সমাবেশস্থল ও প্রস্তুতি এবং মদদ-যোগানোর কেন্দ্রগুলোসহ জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্রগুলো, হাইফার তেল শোধনাগারসহ আরও কয়েকটি তেল শোধনাগার। এইসব টার্গেটে ব্যবহার করা হয় কয়েকটি ওয়ারহেডযুক্ত নয়টি খুররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র যা একই সময়ে ছোঁড়া হয়। এ ছাড়াও কাদর, এমাদ ও খাইবার-শেকান নামক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়।

এ পর্বে মার্কিন টার্গেটগুলোর মধ্যে ছিল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পঞ্চম মার্কিন নৌ-বহর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা যাতে খুব সফলভাবে আঘাত হেনেছে মাঝারি পাল্লার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। 

কথিত ইহুদিবাদী ইসরায়েল তথা অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে জানা গেছে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা শুরুর পর থেকে ৬৪ পর্বের হামলা পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি আশ্রয়-কেন্দ্রগুলোতে বসবাস করছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি ৬৪তম পর্বের অভিযান সফল হওয়ার কথা জানিয়ে বলেছে, ইরানের কুদস ব্রিগেডের সাবেক প্রধান শহীদ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধের ময়দানে আমরাই উপস্থিত থাকব, তোমরা নয় এবং আমরা তোমাদের ছাড়ব না, আমরা তোমাদের উপায়হীন করে ছাড়ব। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।