জানাজায় অংশ নিতে ইরাকি শীর্ষ-নেতারা তেহরানে, সংহতির জন্য বাগদাদকে ধন্যবাদ তেহরানের
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161000-জানাজায়_অংশ_নিতে_ইরাকি_শীর্ষ_নেতারা_তেহরানে_সংহতির_জন্য_বাগদাদকে_ধন্যবাদ_তেহরানের
পার্সটুডে: ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টের স্পিকার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য ইরাককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
(last modified 2026-07-03T15:00:49+00:00 )
জুলাই ০৩, ২০২৬ ২০:৩২ Asia/Dhaka
  • ইরাকের পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি ও ইরানের সংসদ মজলিসে শুরায়ে ইসলামীর স্পিকার বাকের কলিবফ
    ইরাকের পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি ও ইরানের সংসদ মজলিসে শুরায়ে ইসলামীর স্পিকার বাকের কলিবফ

পার্সটুডে: ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টের স্পিকার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সময় ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য ইরাককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (শুক্রবার) ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর (র) জানাজায় অংশ নিতে ইরাকের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্টসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছায়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি-র সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, ইরান ইরাককে শুধু প্রতিবেশী নয়, একইসঙ্গে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবেও বিবেচনা করে। তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক সীমান্ত কখনোই দুই জাতির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে না।

ইরাকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আস-সুদানি, পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানিও জানাজার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে এসেছেন।

পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বেসামরিক, শিক্ষাবিষয়ক ও বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নীতির উদ্দেশ্য হলো গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।

পেজেশকিয়ান বলেন, “মুসলিম বিশ্বের শত্রুরা সবসময় নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা মুসলিম দেশগুলোর অগ্রগতি, শক্তি ও সাফল্যের বিরোধী এবং মুসলিম বিশ্বের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে চায়।”

অন্যদিকে, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি বলেছেন, ইরাকের জনগণ নিজেদের ইরানের শোকের অংশীদার মনে করে। তিনি সরকারি ও জনপর্যায়ে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনের নিন্দা জানান।

তিনি ইরানের “ঐতিহাসিক প্রতিরোধের” প্রশংসা করে বলেছেন, ৪০ দিনের যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বহিরাগত শক্তির উপস্থিতির ওপর নয়, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে প্রকৃত নিরাপত্তা আসে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর গঠনমূলক সম্পর্ক থেকে।”

কালিবাফ: ইরান ও ইরাক সবসময় একে অপরের পাশে ছিল

আলাদা এক বৈঠকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ইরাকের পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কলিবফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে পুরো অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, “আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আশা করি, ইহুদিবাদী শাসক-চক্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ এই অঞ্চলের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে।”

তিনি আরও বলেন, ইরান ও ইরাক সুখে-দুঃখে সবসময় একে অপরের পাশে থেকেছে।

কলিবফ বলেন, “সাদ্দামের বাথ শাসনের তিক্ত ও কঠিন সময় আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। এরপর দুই জাতি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মতো নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একে অপরকে সমর্থন করেছে, একসঙ্গে লড়েছে এবং রক্ত দিয়েছে।”

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্য

হরমুজ প্রণালি পরিচালনার প্রসঙ্গে কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকে এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রণালিটির ব্যবস্থাপনা উপকূলীয় দুই রাষ্ট্র—ইরান ও ওমানের যৌথভাবে পরিচালনা করা উচিত। একই সঙ্গে ইরান পারস্য উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর, যার মধ্যে ইরাকও রয়েছে, মতামত গ্রহণ করবে।

হালবুসি: যুদ্ধজুড়ে ইরানের পাশে ছিল ইরাক

হাইবাত আল-হালবুসি বলেন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ৪০ দিনের যুদ্ধজুড়ে ইরাক ইরানের পাশে ছিল। তিনি আরও বলেন, সংঘাতের সময় ইরাকও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করে ইরাক তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে এবং একই সঙ্গে এটি ইরানের জন্যও নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।

হালবুসি বলেন, “ইরানের প্রতিরোধ সত্যিই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে কলিবফের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

তিনি আরও বলেন, “ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতে ইরাকের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণ—উভয় পর্যায়েই ইরাক ও ইরানের মধ্যে গভীর সংহতি বিদ্যমান এবং দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বারজানি: কুর্দিস্তানের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি

কলিবফ কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি-র সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

বারজানি জানান, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত এলাকায় তার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দিস্তান অঞ্চলের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, কুর্দিস্তান অঞ্চল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেয়ার মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বারজানি বলেন, “যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই আমাদের বাহিনী সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন ছিল। বিভিন্ন প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা কুর্দিস্তানের ভূখণ্ড থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে দিইনি।”

তিনি আরও বলেন, ইরাকের পর কুর্দিস্তান অঞ্চলের জন্য ইরান “নিঃসন্দেহে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দেশ”। তিনি জানান, কুর্দিস্তান অঞ্চল ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং যুদ্ধকালেও সীমান্ত ও বাণিজ্য কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

দুই বছর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে বারজানি বলেন, সেটি দুই পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা ছিল।

এদিকে, হাশদ আল-শাবি বাহিনীর প্রধান ফালেহ আল-ফাইয়াদ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছে।

আজ শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনির লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। পরে তাঁর লাশ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে দাফন সম্পন্ন হবে।  #

পার্স টুডে/এমএএইচ/০৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ