ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে: ট্রাম্প
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দাবি করেছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সময়ের অপচয়। তাঁর দৃষ্টিতে সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।
আজ (বুধবার) ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “তারা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আমার মতে তারা শুধু সময় নষ্ট করছে। আমি আলোচকদের কথা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছি।”
ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও তাঁর পূর্বের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেব না। আমরা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে চাই এবং এটি ইসরায়েল ও ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও দাবি করেন, “ইরানের কর্মকর্তাদের আমি পছন্দ করি না।”
স্পেনের সঙ্গে মতপার্থক্যের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প স্পেনকে ন্যাটোর “একজন ভয়াবহ অংশীদার” বলেও অভিহিত করেন।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জন্য একটি বড় বিষয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ডেনমার্কের কাছে এর তেমন গুরুত্ব নেই।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু আমেরিকার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার। এটি ডেনমার্ককে কোনো সুবিধা দেবে না, কিন্তু আমাদের দেবে।”
চীন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো আচরণ করেছে। আমি শি জিনপিংকে বলেছিলাম, তিনি যেন ইরানের যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়েন। চীনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধে জড়াননি এবং ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জামও পাঠাননি। আমি প্রেসিডেন্ট শির একজন বড় সমর্থক।”
তিনি আরও বলেন, “চীন তাদের ৫০ শতাংশেরও বেশি তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করে।”
পানামা খাল প্রসঙ্গে ট্রাম্প চীনকে সতর্ক করে বলেন, “চীন পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা কখনোই ঘটতে দেওয়া হবে না।”
ইরনা জানায়, আজ সকালে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, মহান ইরানি জাতির ঐতিহাসিক ও ব্যাপক শোকযাত্রার পর যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রতিনিয়ত নিজেদের ব্যর্থতার গভীরতা উপলব্ধি করছে এবং ইরাকি জনগণের বিশাল জনসমাবেশকে নিজেদের জন্য আরও বড় পরাজয় হিসেবে দেখছে, আবারও চুক্তিভঙ্গের পুরোনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে আজ ভোরে মার্কিন বাহিনী হরমুজগান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং মাহশাহরের কয়েকটি উপকূলীয় ঘাঁটি ও বেসামরিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভঙ্গ করেছে।
এর জবাবে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানে সালমান বন্দর, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা একটি এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও (বুধবার) এক বিবৃতিতে জানায়, ভোরে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে এবং এটি যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের সামরিক অভিযান বন্ধের শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।#