'ইরানের সঙ্গে সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে'
যুক্তরাষ্ট্র আর বিশ্বের নেতা নয়, বরং রূপকথার জীবন্মৃত ‘জম্বি’তুল্য: নিউইয়র্ক টাইমস
-
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্স টুডে: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মন্তব্য করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছেন, যেখানে দেশটি যেন রূপকথার জীবন্মৃত এক ‘জম্বি’তে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্বনেতৃত্বের অবস্থান হারিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ উসকে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টির পর ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর কলামিস্ট স্টিফেন মার্শি (Stephen Marche) 'আমেরিকা একটি জম্বি, বিশ্বের নেতা নয়' (America Is a Zombie, Not the Leader of the World) শিরোনামের এক নিবন্ধে লিখেছেন, ট্রাম্পের নীতিমালা শুধু ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেই দুর্বল করেনি, একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিমালা নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য করেছে। কারণ, তাদের ধারণা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা আর নিরাপদ বিকল্প নয়।
তিনি লিখেছেন, ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি, গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা, মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ এবং ন্যাটোকে দুর্বল করার মতো বক্তব্যে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। তবে ধীরে ধীরে তারা উপলব্ধি করেছে যে, ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর খরচ তাদের পূর্ব-ধারণার তুলনায় অনেক কম।
মার্শির মতে, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পাল্টা শাস্তিমূলক বাণিজ্য-ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয়। সামরিক ক্ষেত্রেও ইরানের সঙ্গে সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তীব্র সামরিক চাপের মধ্যেও তেহরান তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের (MoU) মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও এই যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে।
স্টিফেন মার্শি আরও বলেন, আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প যখন একাধিক মিত্র দেশের সমালোচনা করেন এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর আগের দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন, তখন সেগুলো আগের মতো উদ্বেগ সৃষ্টি করেনি। বিভিন্ন দেশ এখন এসব বক্তব্যকে বাস্তবায়নের সক্ষমতাহীন রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবেই দেখছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বহু দেশ ইতোমধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর পথে এগোচ্ছে। একইভাবে বেলজিয়াম ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা থেকে সরে আসার পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিবন্ধের শেষে স্টিফেন মার্শি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘জম্বি’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, দেশটি এখনও শক্তিশালী হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমাগত অনিশ্চয়তার কারণে—পরবর্তী নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন—আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থায়ী নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।