যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শহীদ, বহু আহত
-
মধ্য-গাজার একটি দৃশ্য, ৪ জুলাই
পার্সটুডে: গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ-বিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা প্রায়ই অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। আর এই ধারাবাহিক হামলার মধ্যে আজ রোববার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত দুইজন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।
রোববার ভোরে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের লক্ষ্যবস্তু ছিল গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেইতুন এলাকার কাশকো স্ট্রিটে জড়ো হওয়া বেসামরিক মানুষের একটি সমাবেশ।
গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার পর দুই ফিলিস্তিনি শহীদের মরদেহ আল-শিফা হাসপাতালে আনা হয়েছে।
এদিকে একই সূত্র জানায়, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের ঈদিয়া স্ট্রিটে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হেলিকপ্টারের হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
এ-সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনায়, ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় গুলি ও ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণ চালায়। একই সময়ে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ও কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, খান ইউনিসের উত্তরে হামাদ আবাসিক কমপ্লেক্সের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি মাঝারি ধরনের আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ইসরায়েলি কামান থেকে শেখ নাসের এলাকা এবং বানি সুহেইলা মোড়ের আশপাশে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গাজার ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীরগোলাবর্ষণ ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকায় এবং সীমান্ত ক্রসিংগুলো প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কারণে গাজায় শুধু সীমিত পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তাই যুদ্ধবিরতি কার্যত একটি "মরীচিকা" ছাড়া আর কিছু নয়। এর ফলে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকারী ইসরায়েলি অব্যাহত হামলায় ১,১২৭ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৩,৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।