রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ; প্রতিক্রিয়া ও জোটের বক্তব্য
-
(বাঁ থেকে) নাহিদ ইসলাম- ওলি আহমেদ ও ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতিপ্রকৃতি দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ (রোববার) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল অলি আহমদ জোটের সব নেতা-কর্মী এবং জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই—এমন পরীক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে সবাই সর্বসম্মতিক্রমে তার নাম প্রস্তাব করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে ১১–দলীয় ঐক্য জনগণের কাছে এই বার্তা দিতে চায় যে, কর্নেল অলি দেশের অভিভাবকত্বের যোগ্য। গণতন্ত্রের ধারা সচল রাখতে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত এবং তিনি সর্বদা জনগণের স্বার্থরক্ষায় কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় রাজনীতি সব সময় স্বচ্ছ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, বিএনপি যদি সংস্কারের পথে হাঁটত, তবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দেওয়া যেত। কিন্তু বিএনপি তা না করায় ১১–দলীয় ঐক্য আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্বাচন হলে প্রক্রিয়াটি আরও অর্থবহ হতো, কিন্তু বিএনপি এটিকে দলীয় ব্যাপার হিসেবে নিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেন যে, কর্নেল অলি নির্বাচিত হলে আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে:
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন: ১৩ আগস্ট
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই: ১৬ আগস্ট থেকে শুরু
প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষ সময়: ১৮ আগস্ট
ভোটগ্রহণ: আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে
পার্সটুডে/এমএআর/৮