জম্মু-কাশ্মীরে বিদ্যুৎ কর্মীদের ধর্মঘট, পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী তলব
জম্মু-কাশ্মীরে বিদ্যুৎ কর্মীরা ধর্মঘট কারায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে ডাকতে বাধ্য হল স্থানীয় প্রশাসন।
বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আজ তৃতীয় দিনের মতো বিদ্যুৎ শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গতকাল রোববারও প্রবল ঠান্ডায় কাঁপতে হয়েছে মানুষজনকে। শহরের আশি শতাংশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (পিডিডি) কো-অর্ডিনেশন কমিটির ডাকে এই ধর্মঘট করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় প্রশাসনের অনুরোধে অনেক এলাকার গ্রিড সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে। পুরো বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সহ-সভাপতি ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, বেসামরিক প্রশাসনের ব্যর্থতার বড় স্বীকারোক্তি এর চেয়ে আর হতে পারে না যে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করতে সেনাবাহিনীকে ডাকতে হয়েছে। এর অর্থ হল জম্মু-কাশ্মীর সরকার সুশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছে।
পিপলস কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক ইমরান রাজা আনসারি সরকারকে কটাক্ষ করে এক বার্তায় বলেছেন, এটা শ্রদ্ধেয় মনোজ সিনহার (লেফটেন্যান্ট গভর্নর) নয়া কাশ্মীর। আগে কখনো এরকম শুনিনি।
জম্মু-কাশ্মীরে, বিদ্যুতের বেসরকারীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী রাজ্যের ২০ হাজারের বেশি বিদ্যুৎকর্মী শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার থেকে জম্মুর বেশিরভাগ অংশে এই ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং এরফলে শহরের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। এই ধর্মঘটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জম্মুর গ্রামাঞ্চলে।
প্রশাসন ধর্মঘটকারী বিদ্যুৎ কর্মীদের সাথে কয়েক দফা আলোচনা করে। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে, জম্মু বিভাগের কমিশনার অবশেষে সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছিলেন। শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়।
গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর বিদ্যুৎ উন্নয়ন পর্ষদকে মিশিয়ে দেওয়া এবং সম্পত্তি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ। এরফলে উপত্যকাজুড়ে বিদ্যুৎ পরিসেবা ভেঙে পড়েছে। প্রবল ঠান্ডার মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিক্ষোভে শামিল হওয়া বিদ্যুৎকর্মীরা সরকারের উদ্দেশ্যে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও দৈনিক বেতনভোগী কর্মীদের স্থায়ী করার দাবি তুলেছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/ আবুসাঈদ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।