গোয়া বিজেপির পরাজয়ের ভয়ে একের পর এক খ্রিস্টান নেতা দল ছাড়ছেন!
https://parstoday.ir/bn/news/india-i102430-গোয়া_বিজেপির_পরাজয়ের_ভয়ে_একের_পর_এক_খ্রিস্টান_নেতা_দল_ছাড়ছেন!
ভারতের গোয়ায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা নির্বাচনের আগে, রাজ্যের খ্রিস্টান নেতারা ক্ষমতাসীন বিজেপি দলকে বিদায় জানাতে চলচ্ছেন। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি থেকে খ্রিস্টানদের এই বিচ্ছিন্নতা রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১২, ২০২২ ১৫:০৯ Asia/Dhaka
  • গোয়া বিজেপির পরাজয়ের ভয়ে একের পর এক খ্রিস্টান নেতা দল ছাড়ছেন!

ভারতের গোয়ায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা নির্বাচনের আগে, রাজ্যের খ্রিস্টান নেতারা ক্ষমতাসীন বিজেপি দলকে বিদায় জানাতে চলচ্ছেন। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি থেকে খ্রিস্টানদের এই বিচ্ছিন্নতা রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত সোমবার, কালানগুটের বিধায়ক এবং মন্ত্রী মাইকেল লোবো, বিধায়ক এবং বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই দলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন লোবো। গণমাধ্যমে প্রকাশ, লোবো চেয়েছিলেন তার স্ত্রী ডেলিলাহকে সিওলিম আসন থেকে টিকিট দেওয়া হোক। মাইকেল লোবো কংগ্রেসে যোগ দেবেন বলে খবর রয়েছে তবে বর্তমানে কংগ্রেসও তার স্ত্রীকে প্রার্থী করার বিষয়ে কোনও আশ্বাস দেয়নি। 

এ দিকে, রাজ্যের বড় নেতাদের গোয়ায় আনতে ব্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর মাইকেলের সাথে যোগাযোগ করেছেন। বিধায়ক মাইকেল লোবোকে উত্তর গোয়ার একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং কমপক্ষে ৫ থেকে ৬টি নির্বাচনী এলাকায় তার প্রভাব রয়েছে। রাজ্যটিতে মোট ৪০টি বিধানসভা আসন রয়েছে।    

দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে মাইকেল লোবো বলেন,  ‘ভোটাররা আমাকে  বলেছে যে বিজেপি আর সাধারণ মানুষের দল নয়। একজন সাধারণ কর্মীর এখন আর দলে গুরুত্ব নেই।’ 

কংগ্রেস যদি মাইকেল লোবোকে তাদের শিবিরে আনে, তবে উত্তর গোয়ায় তাদের একটি বড় মুখ থাকবে, যেখানে বিজেপির শক্ত দখল রয়েছে বলে মনে করা হয়।       

লোবো অবশ্য প্রথম বিধায়ক নন যিনি বিজেপিকে বিদায় জানিয়েছেন। এরআগে   বিধায়ক এলিনা সালদানহা বিজেপি ছেড়েছেন। এলিনা আম আদমি পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। আরেক খ্রিস্টান বিধায়ক কার্লোস আলমেডাও বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এমনও জল্পনা রয়েছে যে বিধায়ক এবং মন্ত্রী ফিলিপ নেরি রডরিগজ  এবং বিধায়ক বাবাশানও শিগগিরি বিজেপি ছাড়তে চলেছেন।

মনে করা হচ্ছে, এই বিধায়কদের দল ছাড়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল তারা এখন বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দ্বিধা করছেন। এই বিধায়করা খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা থেকে এসেছেন, যেখানে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ভোটার খুব কম। পরাজয়ের ভয়ে, এই বিধায়করা কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত অবশ্য বলেছেন, বিজেপি একটি বড় পরিবার, যে পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে মানুষের সেবা করে যাবে। এ দিকে, মায়াম আসনের আরেক বিজেপি বিধায়ক প্রবীণ জানতাইও পদত্যাগ করেছেন। তিনি মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে।#    

পার্সটুডে/এমএএইচ/ আবুসাঈদ/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।