প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নির্বোধ বলে কটাক্ষ করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী
https://parstoday.ir/bn/news/india-i102760-প্রধানমন্ত্রী_মোদিকে_নির্বোধ_বলে_কটাক্ষ_করলেন_সিপিএম_নেতা_সুজন_চক্রবর্তী
ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’র অনির্বাণ শিখাকে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নির্বোধ বলে কটাক্ষ করে করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২১, ২০২২ ১৬:৩৯ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নির্বোধ বলে কটাক্ষ করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’র অনির্বাণ শিখাকে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে মিশিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নির্বোধ বলে কটাক্ষ করে করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।

আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুজন চক্রবর্তী প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এত অপদার্থতার অংশীদার হন, তাহলে তা সত্যিই বিপজ্জনক! ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’ কার্যত এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তারপর তাকে ওয়ার মেমোরিয়ালে মেলাবে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু কেন সরাতে হবে?  ভারতীয় দেশ রক্ষার বাহিনী জওয়ান এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্বের গাঁথা, এটা তো আমাদের কাছে গর্বের! এটা তো সারা  দুনিয়া মেনেছে। এটা সবাই মেনেছে যে আমাদের ভারতীয় জওয়ানরা কীভাবে সেই সময়ে ভূমিকা পালন করেছিল। এবং তার স্মৃতিতে ‘অমর জ্যোতি’  তাকে সরিয়ে নেওয়া হবে! এটাতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে আসলে প্রধানমন্ত্রীর না আছে দেশপ্রেমিক  মনোভাব, না আছে গৌরব গাঁথার মনোভাব, না আছে ভারতীয়ত্ব এবং ভারতীয় পরম্পরার বোধ। একেবারে নির্বোধ হয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী, এটা স্পষ্ট।’ 

অমর জ্যোতি

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তাহলে কী আসলে এই অমর জ্যোতিকে অমর্যাদা করার মধ্য দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেই সময়ের ভূমিকাকে অমর্যাদা করার চেষ্টা করা হচ্ছে?  তার মানে কী স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়াটাকে আসলে বিজেপি-আরএসএস যে মেনে নিতে নিতে পারে না, এটা কী তারই প্রমাণ? তারই প্রতিফলন? বাংলাদেশটা বাংলাদেশ না হয়ে যদি পাকিস্তান থাকত, তাহলে কী আসলে প্রধানমন্ত্রী বেশি খুশি হতেন?  প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবে এটা স্পষ্ট উনি পাকিস্তানের পক্ষে কিন্তু একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠল তার পক্ষে না। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা ছেড়ে দিন, বাংলাকে ভাগ করে দিয়েছে, তারপরেও বাংলাদেশ দখলটাকে যারা অস্বীকার করতে চায়, তারা আসলে পাকিস্তানের মনোভাবে বাংলাদেশ চলুক তার পক্ষপাতী, এটাই পছন্দ করেন। এটা চূড়ান্তভাবে একটা দেশ বিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন। এতে সমস্ত গৌরবগাঁথা অস্বীকার করার একটা চেষ্টা। অবশ্যই এর নিন্দা করতে হবে এবং এর বিরোধিতা করার কোনও বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।  

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সোচ্চার হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, অমর জওয়ান জ্যোতির অনির্বাণ শিখা নিভছে না। তাকে কেবল জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে প্রজ্জ্বলিত শিখার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অমর জওয়ান জ্যোতির অনির্বাণ শিখাও কী তা হলে একই সঙ্গে জ্বলবে? সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২১