ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: আল মায়াদিন
-
একটি মার্কিন এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিযান শেষের দিকে এবং তা কমিয়ে আনা হচ্ছে।
আল মায়াদিন ইংলিশ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীন বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ প্রায় ৭০.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে (মে মাসের শুরু পর্যন্ত)।
এই পরিসংখ্যান টেকসই সামরিক হামলার আর্থিক মাত্রা তুলে ধরেছে, যা তাদের পরিধি ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে এখনও সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ ব্যয় ট্র্যাকার (Iran War Cost Tracker) নামক একটি বিশ্লেষণমূলক প্রকল্প এই হিসাব দিয়েছে। তারা বলছে, যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনে পেন্টাগন জানিয়েছিল খরচ হয়েছিল ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে খরচ যোগ হয়েছে, যাতে পরিচালন ব্যয়ের হার গণনাও অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাব ভিন্ন। জুলেস ডব্লিউ. হার্স্ট III জানিয়েছেন, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই দুই ধরনের হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকায় যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোন খরচগুলো যুদ্ধ ব্যয়ের মধ্যে ধরা হচ্ছে—এ নিয়েও ভিন্নতা রয়েছে।
সংঘাত শেষ হওয়ার রাজনৈতিক দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমান সংঘাতে ইরান ইতোমধ্যেই 'পরাজিত' হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন আরও নির্ণায়ক ফলাফল চায়। তবে তিনি আরও বড় সাফল্যের কথাও বলেছেন।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ব্যাপকভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, সামরিক অভিযানের মূল পর্ব শেষের দিকে, অথচ আর্থিক ও পরিচালন ব্যয় জমতেই থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে পরিচালিত যুদ্ধের খরচ নির্ধারণ করা সবসময়ই কঠিন। কারণ এতে বিভিন্ন ধরনের বাজেট, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং গোপন খরচ জড়িত থাকে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো বিতর্ক ও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। আর এই অস্পষ্টতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।#