পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে টিকে থাকতে চায় তৃণমূল ও বিজেপি : অধীর চৌধুরী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে টিকে থাকতে চায় তৃণমূল ও বিজেপি। তিনি আজ (বুধবার) ওই মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার মোমিনপুর এলাকায় সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘এনআইএ’। আজ কোলকাতার নগর দায়রা আদালতে এফআইআর জমা করছে ‘এনআইএ’। কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্য সরকারের পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে।
মোমিনপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে আজ কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘ওখানে দুই পক্ষই তৃণমূলের নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। সুতরাং মোমিনপুরে যা ঘটেছে তা তৃণমূলের সৃষ্টি করা। তাতে লাভ হবে বিজেপি ও তৃণমূলের। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে যারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাদের নাম বিজেপি, তাদের নাম তৃণমূল। মোদী ও দিদির (মোদী-মমতা) এই বোঝাপড়ার কথা সারা ভারতের মানুষ জানে। মোদীর বিরুদ্ধে দিদির কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে। মোদীকে দিদি তুষ্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেজন্য মোদীর বিরুদ্ধে কোনো কাজ বা কথা দিদির করার আর ক্ষমতা নেই। মোদী পশ্চিমবঙ্গে পা রাখতে গেলে তার সাম্প্রদায়িক বিভাজন দরকার। দিদিরও সরকার সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি।’
এদিকে মোমিনপুরের ঘটনায় ‘এনআইএ’ তদন্ত প্রসঙ্গে আজ বিজেপির জাতীয় সহ- সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে দেখুন এই সেদিনও বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। একাধিক লোক মারা গেছে। বাজি কারখানায় বোমা বিস্ফোরণ হয়ে হাত-পা উড়ে যাচ্ছে, বাড়ি উড়ে যাচ্ছে! গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ হয়েছিল এখানে কোনো অন্য হাত আছে কী না। বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্রের হাত আছে কী না জানার দরকার আছে। সেজন্য সবাই আশা করছিলেন ‘এনআইএ’ তদন্ত হলে মানুষের সন্দেহ দূর হবে।’
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘এটা হল জোর করে পিছনের দরজা দিয়ে উত্যক্ত করার রাজনীতি, প্রতিহিংসার রাজনীতি। আপনাদের রাজ্যে যেগুলো হচ্ছে, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশে যেসব হয়েছে সেগুলো তো ছত্রে ছত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কমিশন, এনআইএ তদন্ত হওয়ার কথা। সেখানে তো হয় না?’
এ থেকে বোঝা যায় পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে উঁকিঝুঁকি মারার চেষ্টা, উত্যক্ত করার খেলা হচ্ছে। এই এজেন্সিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে বিজেপির এই রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত পদক্ষেপ’ বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।