ত্রিপুরার নির্বাচনে জয়ী হতে অর্থ ও পেশিশক্তি ব্যবহার করছে বিজেপি: সিপিএম
-
সীতারাম ইয়েচুরি
ভারতে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ত্রিপুরায় ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য অর্থ এবং পেশী শক্তি ব্যবহার করছে।
আজ (শুক্রবার) আগরতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন। ইয়েচুরি বলেন, যখন থেকে গেরুয়া দল বুঝতে পেরেছে যে লোকেরা তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে মরিয়া, তখন থেকে বিজেপি এই কৌশল নিয়ে কাজ করছে। বিজেপি, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার, পুলিশ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন কারচুপির জন্য একটি গুরুতর ষড়যন্ত্র করেছে। নির্বাচনের তিন দিন আগে বিজেপি গুরুতর আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কে জিতবে বা হারবে তা প্রশ্ন নয়, সেখানে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন থাকা উচিত কারণ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ত্রিপুরায় সন্ত্রাস ও দুর্নীতি শুরু হয়েছে।’
অন্যদিকে, আজ (শুক্রবার) ত্রিপুরার মনু বাজারে এক নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হন ত্রিপুরা রাজ্য সিপিএমের সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিজেপি নেতারা বিগত নির্বাচনের সময়ে রাজ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে সিপিএম নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মন্তব্য করেন। একইসময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে বিজেপির সিনিয়র নেতা ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে তীব্র কটাক্ষ করেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, হিমন্তবিশ্ব শর্মা, তার নাম রাখা উচিত ছিল হিমন্তবিশ্ব বাটপাড়! তিনি এখন বলছেন, নির্বাচন আসলে মিছে কথা বলতে হয়। এই হল ভারতীয় জনতা পার্টি। মিথ্যা ছাড়া তারা সত্য বলতে পারে না, বলে না।’
ত্রিপুরায় অবশ্য বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সম্প্রতি নির্বাচনী সঙ্কল্প পত্র প্রকাশ করে বলেছেন, ‘২০১৮ সালে প্রতিশ্রুতি পুরণেই থেমে থাকেনি বিজেপি। ওই সংকল্প পত্রে উল্লেখ ছিল না এমন বহু কাজ মানুষের কল্যাণে করা হয়েছে।’
এদিকে, আজ ত্রিপুরা রাজ্য সিপিএমের সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামী ১৬ ফেরুয়ারি যে নির্বাচন তাতে রাজ্যে নতুন সরকার তো হবেই। নতুন মন্ত্রী সভা হবে, জনগণের সরকার হবে।’বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিধানসভা নির্বাচন হবে। ফল ঘোষণা হবে ২ মার্চ।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমএআর/১০