বাংলার মানুষ তৃণমূলকে বহিষ্কার করবে রাজ্য থেকে: শামিক লাহিড়ী
https://parstoday.ir/bn/news/india-i120708-বাংলার_মানুষ_তৃণমূলকে_বহিষ্কার_করবে_রাজ্য_থেকে_শামিক_লাহিড়ী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতা ও সাবেক এমপি শামিক লাহিড়ী বলেছেন, ‘বাংলার মানুষ তৃণমূলকে বহিষ্কার করবে রাজ্য থেকে। তারই প্রস্তুতি চলছে।’
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৪, ২০২৩ ১৩:৫৭ Asia/Dhaka
  •  বাংলার মানুষ তৃণমূলকে বহিষ্কার করবে রাজ্য থেকে: শামিক লাহিড়ী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতা ও সাবেক এমপি শামিক লাহিড়ী বলেছেন, ‘বাংলার মানুষ তৃণমূলকে বহিষ্কার করবে রাজ্য থেকে। তারই প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আজ (মঙ্গলবার) পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ২ তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে ওই মন্তব্য করেন।  সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আজ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে তাদের একের পর এক আর্থিক দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রেফতার হওয়ার ৫ দিনের মাথায় শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করল তৃণমূল। অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরে আজ কুন্তল ঘোষকেও বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ও তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, কুন্তল ঘোষ হলেন যুব তৃণমূল নেতা। তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিক্রিতে কোটি কোটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ প্রসঙ্গে আজ পশ্চিমবঙ্গের সিপিএমের সিনিয়র নেতা ও সাবেক এমপি শামিক লাহিড়ী বলেন, ‘দুর্নীতির দায়ে যদি বহিষ্কার করতে হয় তাহলে প্রথমেই তৃণমূলের গোটা দলটাকে বহিষ্কার করতে হবে। এই দলে এমন কোনও নেতা খুঁজে পাবেন না যিনি কোনও না কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। যারা এদেরকে ধরে ধরে নেতা বানিয়েছে এবং লুটেরা বানিয়েছে, তাদের কী হবে?’ 

শমিক বাবু আরও বলেন, তৃণমূলের বহিষ্কারের কোনও মূল্য আছে নাকি? আরাবুল ইসলামকে একসময়ে বহিষ্কার করেছিল। কিন্তু তার পরেই তো আবার তাকে ‘এমএলএ’র টিকিট দিয়ে দিল। ওদের কোনও ঠিক আছে নাকি? আবার অন্য দু’জনকে যে বহিষ্কার করল না, তারা কারও নাম বলে দিলে ওখানে বিপদ হয়ে যাবে। যদিও ‘মাথাদের নাম’ বললেও তো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘সিবিআই’ তো কিছু ব্যবস্থা  গ্রহণ করতে পারছে না। কারণ, দিল্লিতে বোঝাপড়া হয়ে আছে। ফলে, এই বহিষ্কারের  কোনও মূল্য নেই। এই বহিষ্কার লোক দেখানো। আসলে বাংলার মানুষ এখন  তৃণমূলকে বহিষ্কার করবে রাজ্য থেকে। তার প্রস্তুতিই চলছে’ বলেও মন্তব্য করেন সিপিএমের সিনিয়র নেতা ও সাবেক এমপি শামিক লাহিড়ী।

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, ‘গোটা তৃণমূল দল দুর্নীতির ক্যান্সারে আক্রান্ত। অনুব্রত, মানিক বাবুরা কোথায় গেলেন? তারা তো চোরদের বাবা। এসব চোর তো ওদেরই সৃষ্টি। এদের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না? কারণ জানে যে, অনুব্রতকে যদি সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনুব্রত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে তৃণমূল দলের অনেক বড় বড় রাঘববোয়ালের নাম বেরিয়ে আসবে! সেজন্য ছোটোখাটো দুই/চার জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে সবাইকে খুশি করার চেষ্টা’ বলেও মন্তব্য করেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী  এমপি।   

আজ (মঙ্গলবার) রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মুখপাত্র ও রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেছেন, ‘তৃণমূল কখনওই দোষীদের সমর্থন করেনি। বরং, তারা চায় এই দুর্নীতির তদন্তে গতি আসুক। দ্রুত এর সমাধান হোক। এই প্রক্রিয়ায় যাদের নাম প্রকাশ্যে এসেছে, দল তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। আর এখানেই অন্যান্য দলের সঙ্গে তৃণমূলের পার্থক্য। তৃণমূল অভিযুক্তদের সমর্থন করে না। কিন্তু বিজেপিকে স্পষ্টতই তাদের দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের জামিনের জন্য তদ্বির করতে দেখা গেছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

মন্ত্রী শশী পাঁজা এমন দাবি করলেও নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রকাশ্যে আসা তৃণমূলের বিধায়ক ও দলের সদস্য মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করতে দেখা যায়নি। এবং একইভাবে কয়লা ও গরু পাচার মামলায় ধৃত বীরভূমের  জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী নেতারা। 

মন্ত্রী শশী পাঁজা অবশ্য বলেছেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে এটা (কেন্দ্রীয় সরকারের) প্রতিহিংসার রাজনীতি। নির্বাচনে পারছে না, উন্নয়নে পারছে না। সেজন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-ইডিকে কাজে লাগানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল মুখপাত্র ও রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/১৪