বাংলা দাঙ্গার জায়গা নয়,অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টাকে আমরা ধিক্কার জানাই : শশী পাঁজা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেছেন, বাংলা দাঙ্গার জায়গা নয়, অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টাকে আমরা তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাই। রাজ্যে হনুমান জয়ন্তীতে বিজেপি অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আজ (বুধবার) রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল মুখপাত্র শশী পাঁজা এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘একটা ন্যারেটিভ তৈরি করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), সেটা হচ্ছে অশান্ত বাংলা।’ তিনি বলেন, ‘বাংলা দাঙ্গার জায়গা নয়। মুখ্যমন্ত্রী এব্যাপারে খুব কড়া ভাষায় বলেছেন, কারণ সামনেই কিন্তু হনুমান জয়ন্তী। হনুমান জয়ন্তী, বজরংবলী উৎসব, এই পুজো সারা বছরই আমরা করি। সারা বছর এতগুলো উৎসব হয়, এতগুলো ঠাকুরের বিসর্জন হয়।’
তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে সরস্বতী পুজো থেকে ২৫ ডিসেম্বর বড় দিন, সবগুলোই হয়। কেন তাহলে রামনবমী কিংবা আগামী দিনে হনুমান জয়ন্তীকে তারা মনে করছেন এগুলোকে ব্যবহার করা যাবে, এবং ব্যবহার করা হবে এই অশান্তি ছড়ানোর জন্য। এটাকে তীব্র ভাষায় আমরা ধিক্কার জানাই। বাংলাকে কালিমালিপ্ত করে যারা মনে করছেন, আগামীদিনে পঞ্চায়েত কিংবা লোকসভা নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক লাভ হবে, এই জায়গায় আমাদের বলার।’
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) হনুমান জয়ন্তী সম্পর্কে প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে কেউ যেন দাঙ্গা না করতে পারে। মমতা বলেন, ‘আর একটা দিন প্রশাসনকে আমি সতর্ক করব ৬ তারিখটা (বৃহস্পতিবার) মনে রাখবে আমাদের ছেলে-মেয়ারাও। আমরা বজরংবলীকে সবাই সম্মান করি। কিন্তু ওরা যেন দাঙ্গার নামে আবার কোনও প্ল্যান না করতে পারে, এটা মাথায় রেখে দেবেন। সারা ভারতবর্ষে করছে।’
সম্প্রতি হাওড়া জেলার শিবপুর, হুগলী জেলার রিষড়া ও অন্যত্র রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এবার হনুমান জয়ন্তী পালনকে কেন্দ্র অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা।
বিশ্বহিন্দু পরিষদ ঘোষণা করেছে রামনবমী থেকে শুরু করে হনুমান জয়ন্তী পর্যন্ত ‘রাম মহোৎসব’ পালন করা হবে। এছাড়া আগামী শুক্র ও শনিবার রাজ্যের সর্বত্র বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। এতে শামিল হবে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা শচীন্দ্রনাথ সিংহের দাবি- তারা মনে করছেন বাংলার হিন্দু সমাজ বিপন্ন। সেজন্য সাধুসন্তরা হিন্দুদের রক্ষার জন্য রাজ্যপালের কাছে কড়া ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানাবেন।’
সম্প্রতি রাজ্যে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজ্যের কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজ্যের দু’টি থানা এলাকাকে উপদ্রুত ঘোষণা করে সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদও একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে তারা রাজভবনে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/ ৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।