হরিয়ানায় মসজিদে নামাজের সময় দুর্বৃত্তরা হামলা: আহত ১০, আটক ১৬
ভারতে বিজেপিশাসিত হরিয়ানার সোনিপতের একটি মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলায় ১০ মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের সোনিপত ও খানপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল (রোববার) রাতে সান্দাল কালান গ্রামে লাঠি ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় ২৫ যুবক মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। এ সময়ে মসজিদে ঢুকে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে। আজ সকালে পুলিশ কমিশনার সতীশ বালান সংশ্লিষ্ট গ্রামে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। ১০ জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে হেফাজতেও নিয়েছে পুলিশ। মুসলমানদের অভিযোগ, নামাজ পড়তে বাধা দিতে তাদের মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ বলছে, হেফাজতে নেওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আহতদের অভিযোগ, হামলাকারীরা শিশু ও নারীদেরও রেহাই দেয়নি। তাদেরকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তাদের নামাজে ক্ষুব্ধ হয়। ওই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। জনগণকে শান্তির আবেদন জানিয়ে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মুহাম্মদ সেলিম নামে এক ব্যক্তি বলেন, তারা রাত ৯টায় নামাজ পড়ছিলেন। তখন হামলার ঘটনা ঘটে। কেন মারধর করা হয়েছে আমরা জানি না। তারা আমাদের লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। তারা ছুরি ও হকি স্টিকও নিয়ে এসেছিল। বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি আহত হয়েছে।
ওই ঘটনার বিষয়ে মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ কাউছার বলেন, কারো সঙ্গে তাদের কোনো ঝগড়া নেই, কোনো বিরোধ নেই। তিনি বলেন, রাতে সবাই নামাজ পড়ছিল, তখন হামলাকারীরা মসজিদে ঢুকে হামলা চালায়, এতে লোকজন আহত হয়।
পুলিশ কমিশনার বি সতীশ বালান সোমবার সকালে সংশ্লিষ্ট গ্রামে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, যতদিন ভুক্তভোগীরা অনিরাপদ বোধ করবেন ততদিন গ্রামে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
সতীশ বালান বলেন, গ্রামের কিছু অসামাজিক উপাদান রাতে মসজিদে ঢুকে নামাজ পড়া লোকদের ওপর হামলা চালায়। নিজেদের মধ্যে কোনো বিবাদ বা উত্তেজনা ছিল না। পুলিশ ১৬ যুবককে আটক করেছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কোনো কারণ ছাড়া কোনো ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ করে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, ৭/৮ জন আহত হয়েছে। হাসপাতালে কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে। সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানান পুলিশ কমিশনার। ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৫/৬ জনকে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে। গ্রামে আজ পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্রামবাসীরাই মসজিদ ও মানুষজনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে।
সম্প্রতি রাম নবমীর দিন সোনিপতের খারখোদায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীদের দ্বারা মসজিদে পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি না মিটতেই এবার ফের নতুন ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এখানে কিছু যুবক সশস্ত্র অবস্থায় গ্রামের একটি একটি মসজিদে পৌঁছে রমজানের নামাজ পড়া মুসল্লিদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা এ সময়ে মসজিদেও ভাঙচুর করে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমএআর/১০