অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা সিবিআইয়ের, শুভেন্দুকে গ্রেফতারের দাবি কুণালের
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমপিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘সিবিআই’ জেরা করায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
আজ (শনিবার) সকাল ১১টায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন। এর পর থেকে তাকে একটানা জেরা শুরু হয়।
রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষের চিঠি সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘সিবিআই’ আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমপিকে তলব করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। আগামী ২২ মে শীর্ষ আদালতে তার মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হবে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বলেন, ‘জনৈক কুন্তল ঘোষের একটি চিঠি জেল থেকে দেওয়া হয় কোর্টকে। তার ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তড়িঘড়ি ডাকার জন্য এত তৎপরতা! মনে রাখবেন, কুন্তলের চিঠিতে কিন্তু অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। একটি চিঠি যাতে কোনও অভিযোগও নেই, সেই চিঠির ভিত্তিতে যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে ডেকে পাঠানো হয়, তাহলে (বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা) ‘সারদা’ কর্তা সুদীপ্ত সেনের চিঠির ভিত্তিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে জেরা করা এবং গ্রেফতার করা হবে না কেন?’
এদিকে, আজ (শনিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বার্তায় বলেন, ‘২০০১ সালে এই দিনে আমরা ৩৪ বছরের দানব শাসনকে উৎখাত করে পশ্চিমবঙ্গে মা-মাটি-মানুষের সরকার গঠনের শপথ নিয়েছিলাম। সেই অঙ্গীকারের আজ পুনর্নবীকরণ করছি এবং জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করছি।’ তিনি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে নিশানা করে আরও বলেন, ‘কেন্দ্রে স্বৈরাচারী সরকারের এজেন্সি-রাজ আমাদের কাজকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। কিন্তু সারা দেশে লাখ লাখ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। মিছিলে আছেন। দীর্ঘজীবী হোক ২০ মে।’
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরা করাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য বিরোধী বিভিন্ন দল ওই তৎপরতাকে সমর্থন জানালেও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এটাকে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে মনে করছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।