শাহ-মোদীর দেখানো পথে চলছে তৃণমূল কংগ্রেস: বাইরনের দল বদল প্রসঙ্গে বিকাশরঞ্জন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এমপি রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলকে নিশানা করে বলেছেন, গোটা দেশজুড়ে অমিত শাহ ও মোদী যে পরিকল্পনা চালু করেছিলেন, সেই পথেই চলেছে তৃণমূল।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একমাত্র কংগ্রেস বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস আজ (সোমবার) দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় বিকাশ বাবু ওই মন্তব্য করেছেন। বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের হাতে আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় পতাকা তুলে দেন।
ওই ইস্যুতে আজ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এমপি বাইরন বিশ্বাসকে ‘মেরুদণ্ডহীন প্রাণী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হাটে বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু প্রাণী পাওয়া যায়, সেই রকম প্রাণী মানুষের মধ্যেও কিছু থাকে। তাহলে একটি প্রাণী বিক্রি হয়ে গেল। বিক্রি হল এবং এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার প্রমাণ হয়ে গেল, গোটা দেশজুড়ে অমিত শাহ-মোদী যে পরিকল্পনা চালু করেছিলেন যে, যেখানেই তারা হারবেন সেখানে পয়সা দিয়ে হোক, ভয় দেখিয়ে হোক তারা বিরোধী যারা জিতেছেন তাদের কিনে নেবেন, ভাঙিয়ে নেবেন, সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করল তৃণমূল। তৃণমূলের পক্ষে একটি বিধানসভার নব নির্বাচিত বিধায়ককে এখুনি দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। একটাই প্রয়োজন যে, টাকা পয়সা দিয়ে ভয় দেখিয়ে মেরুদণ্ডহীন কিছু মানুষকে কেনা যায়, তারা কিনেছেন। কিন্তু এর পরিণতি মারাত্মক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেরদণ্ডহীন প্রাণী পয়সায় বিক্রি হয়ে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে এটাও প্রমাণ হচ্ছে যে ভারতবর্ষের গণতন্ত্রের পক্ষে তৃণমূল এবং বিজেপি তারা কতটা নীচে নামতে পারে যে তারা মানুষের ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত মতামতকে পয়সা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মানুষ একসময়ে অভিষেক বা বাইরন বিশ্বাসকে পাত্তা দেবেন না, এবং আগামীদিন সেই ইঙ্গিত বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এমপি।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সাগরদিঘি আসনের উপনির্বাচন হয়। ফল ঘোষণা হয় ২ মার্চ। এখানে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করেছিল কংগ্রেস। উপনির্বাচনে হেরে যান তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। কিন্তু মাত্র তিন মাসের মধ্যে বিধানসভায় কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘মীরজাফরের থেকেও মানুষের সঙ্গে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বাইরন। কংগ্রেস কর্মী এবং সাগরদিঘির মানুষের সমর্থন নিয়ে জিতে যে ভাবে তিনি দলবদল করেছেন তা বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। আগামী দিনে মানুষ এর জবাব দেবে।’
অন্যদিকে, বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস বলেছেন, ‘আরও বেশি মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। সাগরদিঘির সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি’ বলেও মন্তব্য করেন বাইরন বিশ্বাস।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২৯