পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম পরিবারের ওপর জুলুমের প্রতিবাদে সংখ্যালঘু কমিশনে স্মারকলিপি
-
রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম পরিবারের ওপর জুলুম, হুমকি ও অত্যাচারের প্রতিবাদে রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’। সোমবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী শাহ’র কাছে এ স্মারকলিপি তুলে দেয়া হয়।
সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আজ (মঙ্গলবার) বলেন, স্মারকলিপিতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার কয়েকটি মুসলিম পরিবারের ওপর যে অত্যাচার চলছে তার প্রতিকার দাবি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী থানার অন্তর্গত চুনাখালি এবং নির্দেশখালি এলাকায় সংখ্যালঘুদের চাষের জমি লুট, মোটা টাকা জরিমানা এবং দোকান লুট করা হচ্ছে। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।’ এলাকার জনপ্রতিনিধির মদদেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘পাঠানখালি গ্রামের কয়েক শত মানুষ প্রাণের ভয়ে বাইরে দিন কাটাচ্ছেন। চুনাখালি, পানিখালি, উত্তর ভাঙনখালি, তিতকুমার প্রভৃতি গ্রামের মাজেদ মোল্লা, নাসিরুদ্দিন খান, অহেদ আলী শেখ, ইয়ুদ আলী শেখ, রুহুল আমিন শেখ, মোজাম্মেল সর্দার, মাস্টার জসিমউদ্দিন প্রমুখ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
সংশ্লিষ্ট এলাকার মাদ্রাসা এবং বালিকা বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘চুনাখালি মাদ্রাসা এবং নির্দেশখালি ‘আল মানার গার্লস মিশন’ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পথে নানাভাবে বাধা দেয়া হলেও বাসন্তী থানা সহজে অভিযোগ নিতে চাচ্ছে না। কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযোগ নেয়া হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।’
অন্য একটি ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগর থানার খাস রামকর (খাস রামপাড়া) গ্রামের সেখ মাহফুজ আলম গত ২০ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি গ্রামের নাজিরা বিবি ওরফে সোনালি সর্দার (পিতা-পবন কুমার সর্দার) সঙ্গে আদালতে হলফনামা দিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে সরকারি আইন মেনে বিয়ে করে। যদিও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে। এবং পরে আদালত থেকে তারা জামিন পান। পুলিশ এবং সিআইডি’র পক্ষ থেকে নানাভাবে ওই পরিবারকে হয়রানি তথা হেনস্থা করা হচ্ছে। তদন্তের নামে তাদের নানা তৎপরতার ফলে ওই পরিবারটির সামাজিক সম্মান নষ্ট হচ্ছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মদতে মাহফুজ আলমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে যাতে তিনি তার দোকানটি তালা মুক্ত করে ব্যবসার কাজ চালু করা সহ সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’
সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান সমস্ত বিষয় শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯