‘শিক্ষা বাঁচাও, বেকারত্ব হঠাও’ কর্মসূচির পক্ষে কোলকাতায় সংবাদ সম্মেলন
স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া (এসআইও) পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে ‘শিক্ষা বাঁচাও, বেকারত্ব হঠাও’ কর্মসূচিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে।
কোলকাতা প্রেস ক্লাবে আজ (বুধবার) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছাত্র সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এ সংক্রান্ত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসআইও’র পশ্চিমবঙ্গ জোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শেখ আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘‘শিক্ষা বাঁচাও, বেকারত্ব হঠাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্মারকলিপি প্রদান, মিছিল, গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন প্রভৃতি কর্মসূচি চলছে। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ওই ইস্যুতে মিছিল করা হবে।’
এসআইও’র ভারপ্রাপ্ত রাজ্য সভাপতি আব্দুল ওদুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কোলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ছাত্রদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন স্কুল সার্ভিস কমিশন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন,প্রাইমারি শিক্ষা দপ্তর এবং শিক্ষামন্ত্রীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হবে।’
এসআইওর রাজ্য সভাপতির মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও যুবকদের অবস্থা কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে। স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়োগ নেই। রাজ্যের শিক্ষা বাঁচাতে এবং কর্মহীন যুবক-যুবতীদের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে এসআইও মাঠে নেমেছে।’
এসআইও’র দাবি, অবিলম্বে সব শূন্যপদে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করতে হবে। এসএসসি, এমএসসি এবং প্রাইমারি ‘টেট’ উত্তীর্ণদের নিয়োগ, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেয়া, প্রাইমারি টেট দুর্নীতি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়া, মাদ্রাসা সার্ভিস নিয়ে জটিলতা কাটাতে এখনো পর্যন্ত সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জনগণকে নির্দেশিকা জারি করে জানানো, চাকরির পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নামের পরিবর্তে এডমিট কার্ডের রোল নম্বর লেখার ব্যবস্থা চালু করা, এবং সামাজিক, নৈতিক ও মূল্যবোধ ভিত্তিক আদর্শ পাঠক্রম গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজ্যে যথাযথভাবে ওবিসি সংরক্ষণ (কোটা) করা হচ্ছে না অভিযোগ করে এসআইও’র দাবি, ওবিসিদের জন্য ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক জেলায় এবং মহকুমায় কমপক্ষে একটি করে মেডিকেল ও আইন কলেজ স্থাপন করতে হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাচার কমিটির রিপোর্ট ও রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে একটি করে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআইও’র রাজ্য সভাপতি ছাড়াও রাজ্য সম্পাদক মাইমুর আনসারী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কবি মোকতার হোসেন মণ্ডল এসআইও’র কর্মসূচিকে সমর্থন জানান। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১