পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি, মমতার সমালোচনা করল সিপিআই(এম)
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত ৫ বছরে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গে তাদের অগ্রগতি সংগঠনের জাতীয় পর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বসহ আলোচিত হয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে রোববার আরএসএসের জাতীয় পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় হায়দরাবাদে। সেখানে অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে তাদের সাফল্য এবং অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
আরএসএস নেতা বিদ্যুৎ মুখার্জিকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশ, রাজ্যে গত পাঁচ বছরে ৪৭৫ থেকে তাদের শাখার সংখ্যা ১৪৫৪ টিতে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সাপ্তাহিক এবং মাসিক বৈঠকে সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। গত একবছরে সারা দেশে ১৮১ টি মাসিক বৈঠক বেড়েছে। কিন্তু এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই তা হয়েছে ১৫০ টি। মাসিক এবং সাপ্তাহিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে আরএসএস দর্শনের ধারাবাহিক প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আরএসএস সূত্রে প্রকাশ, ভারতে ২০১৫ জুলাই থেকে ২০১৬ জুলাই এক বছরে আরএসএসের ১৬১৭ টি শাখা হয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই ২০০ টি জায়গায় ২৭৫ টি শাখা তৈরি হয়েছে।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যেও আরএসএসের ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে। সেখানেও বেড়ে চলেছে তাদের শাখা সংগঠন। কার্যত কর্ণাটকের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্থান।
বৃহস্পতিবার আরএসএস রাজ্য কমিটির কার্যবাহক (সাধারণ সম্পাদক) জিষ্ণু বসু বলেন, ‘রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের উচ্ছেদ বা অপসারণ আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মমতা ব্যানার্জি নিজের রিফর্ম (সংস্কার) করুন। তার আত্মশুদ্ধি হোক।’
ভারতের কেরালা রাজ্যে আরএসএসের ব্যাপক তৎপরতায় সেখানে বামপন্থীদের সঙ্গে একনাগাড়ে সহিংসতা চলছে। গত মঙ্গলবার সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উত্তর কেরালায় মুসলিম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আরএসএস পরিকল্পিত হামলা ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি তাদের সংগঠন বাড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের লক্ষ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।
সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘ভারতের স্বাধীনতার পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে যতগুলো বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে তার সব ক’টিতেই সঙ্ঘ পরিবারকে অভিযুক্ত হতে হয়েছে।’
কেরালায় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে সঙ্ঘপরিবারের হামলায় পাঁচজন সিপিআই(এম) কর্মী নিহত, তিনশ’ জনের বেশি দলীয়কর্মী আহত এবং ৩৫ টি দলীয় দফতর ও ৮০ জন কর্মী-সমর্থকের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ওইসব হামলাকে আড়াল করতে গোয়েবলসীয় কায়দায় তারা নিজেরাই সিপিআইএমের হাতে আক্রান্ত এমন মিথ্যা কথা বারবার প্রচার করা হচ্ছে বলেও সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮