ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা বৃদ্ধির দাবি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের হুঁশিয়ারি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i24772-ইমাম_মুয়াজ্জিন_ভাতা_বৃদ্ধির_দাবি_পশ্চিমবঙ্গ_সরকারকে_সংখ্যালঘু_যুব_ফেডারেশনের_হুঁশিয়ারি
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’। সংগঠনটি বলেছে, ‘মুসলিম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের স্বার্থ রক্ষা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।’
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৪, ২০১৬ ১০:৪৬ Asia/Dhaka
  • বক্তব্য রাখছেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
    বক্তব্য রাখছেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’। সংগঠনটি বলেছে, ‘মুসলিম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের স্বার্থ রক্ষা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।’

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘সংখ্যালঘু মুসলিমদের একচেটিয়া সমর্থনের ভিত্তিতে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসতে সমর্থ হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইমামদের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পালিত হয়নি। সরকার যাতে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সার্বিকভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৎপর হয় তার বার্তা দিতে আগামী ৮ নভেম্বর কোলকাতার ধর্মতলায় মহাসমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।’

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘পেটে ক্ষুধা থাকলে মুখে লজ্জা নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইমামদের জন্য ‘নিজ ভূমি নিজ গৃহ’ প্রকল্পের আওতায় এনে তাদের সুবিধা দেবেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।’ ইমামদের ‘গীতাঞ্জলি আবাস যোজনা’ এবং ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা’র অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

ওয়াকফ বোর্ড থেকে দেয়া নামমাত্র ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ইমামদের মাসিক ১০ হাজার এবং মুয়াজ্জিনদের ৬ হাজার টাকা ভাতা দিয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গেও আমরা একইভাবে ওই ভাতা চালু করার দাবি জানাচ্ছি।’

পশ্চিমবঙ্গে ইমামদের প্রতি মাসে আড়াই হাজার এবং মুয়াজ্জিনদের মাত্র এক হাজার টাকা ভাতা দেয়া হয়। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী তা অত্যন্ত নগণ্য বলে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা মনে করছেন।

কামরুজ্জামান বলেন, ওয়াকফ বোর্ডে নথিভুক্ত কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তির বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পর্যাপ্ত ভাতা দিতে কোনো অসুবিধাই হয় না। অনেক জায়গায় বেদখল হয়ে থাকা ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ চালু করার চেষ্টা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ইসলামী শরয়ী আইনে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে এ নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ এ ব্যাপারে আগামী ২০ নভেম্বর কোলকাতায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪