পশ্চিমবঙ্গে টোল প্লাজায় সেনা মোতায়েন: ‘জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ংকর’ বললেন মমতা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i27256-পশ্চিমবঙ্গে_টোল_প্লাজায়_সেনা_মোতায়েন_জরুরি_অবস্থার_চেয়েও_ভয়ংকর’_বললেন_মমতা
রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে বিভিন্ন টোল প্লাজায় সেনা মোতায়েন করে তথ্য সংগ্রহ করায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০২, ২০১৬ ০৮:১০ Asia/Dhaka
  • পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে বিভিন্ন টোল প্লাজায় সেনা মোতায়েন করে তথ্য সংগ্রহ করায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১০ টা নাগাদ রাজ্য সচিবালয় নবান্নে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং প্রতিহিংসা নিয়ে ওই কাজ করা হচ্ছে। এটা অসাংবিধানিক, অনৈতিক এবং অগণতান্ত্রিক। সেনা যতক্ষণ না ফিরে যাচ্ছে, ততক্ষণ আমি সচিবালয়ে থাকব।ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাতভর মমতা সচিবালয়েই থাকেন।

ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, ‘ওই ঘটনা জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ংকর! যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পর আঘাত করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থা ছাড়া রাজ্যকে না জানিয়ে কখনো সেনা নামানো যায় না।

সেনাবাহিনীর গাড়ি

একটি সূত্রে প্রকাশ, আজ (শুক্রবার) সংসদেও ওই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাবে তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে বিরোধী কংগ্রেস এবং অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে তৃণমূল। তৃণমূল এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা গুলাম নবী আজাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ঘটনায় এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে, বিভিন্ন রাজ্যে ওই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছেন সেখানে এ ধরণের তৎপরতা চালানো হচ্ছে কী না। তিনি বলেন, ‘এখানে কি সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে? মহারাষ্ট্র, কেরালা, উড়িষ্যা, ছত্তিশগড় থেকে খবর নিয়েছি। কোথাও তো এটা হয়নি। নির্বাচিত সরকারটাকে সেনাবাহিনীর হাতে দিয়ে চলে যাব না।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর দাবি, এটা তাদের রুটিন কর্মসূচি। কখনো যুদ্ধের পরিস্থিতি হলে রসদ ও খাওয়ার পানি বিভিন্ন শিবিরে পৌঁছনোর জন্য প্রচুর মালবাহী গাড়ির প্রয়োজন হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জওয়ানরা কত গাড়ি নিতে সক্ষম, দুই দিন ধরে পূর্ব ভারতের সকল রাজ্যে তার জরিপ চালানো হচ্ছে। কোলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে জানিয়েই তারা ওই জরিপ চালাচ্ছে বলেও সেনাবাহিনী দাবি করেছে।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহানির্দেশক, পুলিশ কমিশনার সকলেই সেনাবাহিনীর দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন সেনাবাহিনী ওই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে কিছুই জানায়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী যে তথ্য সংগ্রহ করছে তা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে আজ (শুক্রবার) এক বার্তায় জামবনি, খড়গপুর, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, ব্যারাকপুর, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, হুগলী, হাওড়া প্রভৃতি এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২