বিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড়, জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ভাঙড়ে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করতে গিয়ে এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রতিবাদী জনতার উপরে লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। ওই ঘটনায় আলমগীর নামে আন্দোলনকারী এক বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
প্রতিবাদকারীরা লাঠি, ইট, পাথর নিয়ে পাল্টা হামলা চালালে এক পুলিশকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িতেও।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে ভাঙড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। গ্রামবাসীরা অবশ্য বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী এসে প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দিলে তবেই আন্দোলন থামানো হবে। বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বলতে হবে, বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য জমি নেয়া হবে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের শীর্ষস্তরীয় নেতা মুকুল রায় ভাঙড়ে গিয়ে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মানুষ না চাইলে ওই প্রকল্প হবে না’।
ভাঙড়ের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আন্দোলনে নেমেছেন। ওই আন্দোলনকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট এলাকা। গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারীরা ভাঙড়ে হাড়োয়া রোড প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে জেলা প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ঠিক হয়, পাওয়ার গ্রিড কাজ বন্ধ রাখবে।
ভাঙড়ে ১৩ একর জমির উপরে পাওয়ার গ্রিডের একটি সাবস্টেশন তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন টানার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও জমি রক্ষা কমিটি গ্রামবাসীদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে।
গতকাল সোমবার রাতে জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সদস্য শেখ সামসুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্দোলনকারীরা হাড়োয়া রোড অবরোধ করে। অনেক রাতে সামসুলকে ছেড়ে দেয়া হলে অবশেষে আবরোধ উঠে যায়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাতে বিশাল পুলিসবাহিনী এসে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তারা বিনা প্ররোচনায় পুরুষ ও নারীদের ওপরে লাঠি চালায় এবং ভাঙচুর করে। পুলিশের পাল্টা অভিযোগ, তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয় এবং মারধরও করা হয়। আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
এদিকে, সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান কৃষক এবং সাধারণ মানুষের উপরে পুলিশ অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে নিতে নিষেধ করেছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৭