পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড়ে বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ: গুলিতে নিহত ২, ক্ষতিপূরণ দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i31258-পশ্চিমবঙ্গের_ভাঙড়ে_বিদ্যুৎ_প্রকল্প_বন্ধের_দাবিতে_বিক্ষোভ_গুলিতে_নিহত_২_ক্ষতিপূরণ_দাবি
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ভাঙড়ে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, মাফিজুল আলি খান এবং আলমগির মোল্লা। ওই ঘটনায় আহত অন্য কয়েকজন বিক্ষোভকারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোলযোগের আশঙ্কায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ১৮, ২০১৭ ১০:৫৫ Asia/Dhaka
  • অগ্নিগর্ভ ভাঙড়ে লাঠি হাতে প্রতিরোধে গ্রামবাসী
    অগ্নিগর্ভ ভাঙড়ে লাঠি হাতে প্রতিরোধে গ্রামবাসী

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ভাঙড়ে একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, মাফিজুল আলি খান এবং আলমগির মোল্লা। ওই ঘটনায় আহত অন্য কয়েকজন বিক্ষোভকারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোলযোগের আশঙ্কায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভরত মানুষের পর কোনো গুলি ছোঁড়া হয়নি বলে পুলিশ দাবি করেছে। রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক অনুজ শর্মার জানান, বহিরাগতদের গুলিতেই আন্দোলনকারীদের মৃত্যু হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে কোনোকোনো মহল থেকে ওই এলাকায় সন্তান হবে না বা পুকুরের মাছ মারা যাবে- এ ধরণের প্ররোচনা দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের উত্তপ্ত করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

ভাঙড়ে জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও জমি রক্ষা কমিটির দাবি, বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাবস্টেশন চালু হলে ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। ক্ষতি হবে কৃষি-ফসলের। তাই জনবহুল এলাকায় সাবস্টেশন তৈরি বন্ধ করতে হবে।  কিন্তু প্রাক্তন বিদ্যুৎ কর্মকর্তা অমরেশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘ হাইটেনশন লাইনের কারণে পরিবেশ বা মানব দেহে কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব পড়েছে বলে কখনো শুনিনি।’

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক ব্রহ্মচারী বলেন, ‘হাইভোল্টেজ তারের জন্য চাষাবাদের ক্ষতি হয়েছে বলে কোনো গবেষণালব্ধ প্রামাণ্য নথি চোখে পড়েনি।’  

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান (বাম থেকে দ্বিতীয়)

আজ (বুধবার) অল ইন্ডিয়া সুন্নত অল জামাতের সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন ভাঙড় এলাকায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিহত এবং আহতেদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশি তল্লাশির নামে যেসব মহিলারা হেনস্থা এবং নিগ্রহের স্বীকার হয়েছেন তাদেরও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ ওই ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মুফতি আব্দুল মাতীন বলেন, একটি মহল থেকে গত এক মাস ধরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্প হলে মানবদেহে নানা ক্ষতি হতে পারে এমনকি পুকুরের মাছ মারা যেতে পারে, মাটির নীচে পানির স্তর কমে যেতে পারে এমন প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যাসত্য যাচাই করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে ওই প্রচারণার বিরুদ্ধে আসল সত্যিটা কী তা জানানো হল না কেন? শক্তি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন করা হল কেন?’

আজ সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের পর পুলিশ যেভাবে জুলুম চালিয়েছে তা তীব্র নিন্দনীয়। পুলিশ যেভাবে বাড়ি বাড়ি ঢুকে শিশু, নারী সহ সাধারণ মানুষকে লাঠিপেটা করেছে তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়। সরকারকে নিহত এবং আহত পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের দমন নীতি এবং শাসকদলের নেতাদের দ্ধত্যমূলক বক্তব্যের জেরেই সাধারণ মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে কোনোভাবেই যাতে সাধারণ কৃষিজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সাধারণ মানুষকে আইন হাতে না তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন বলেও মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৮