গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ‘বাংলা, দার্জিলিং ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দিলেন বিমল গুরুং
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে এবার ‘বাংলা, দার্জিলিং ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দিলেন বিমল গুরুং। ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’ প্রধান বিমল গুরুং শনিবার ওই আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে গুরুং বলেন, ‘১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন পাহাড়বাসীর প্রধান স্লোগান হবে ‘বাংলা, দার্জিলিং ছাড়ো’।
তিনি বলেন, যেভাবে ইংরেজরা আমাদের শোষণ ও নির্যাতন করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারও পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের সঙ্গে সেরকম আচরণ করছে।’
গুরুং বলেন, যখন আমরা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেব তখন আমরা কেবল গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রামকেই পালন করব না বরং বাংলার ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দেখানো হবে।‘
‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ৭৫ বর্ষ পূর্তিতে ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তেরঙ্গা যাত্রা কর্মসূচি পালনের সময় ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগানের পাশাপাশি, ‘বাংলা দার্জিলিং ছাড়ো’, ‘বাংলা, দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্স ছাড়ো’ স্লোগান দেয়া হবে।
‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র কেন্দ্রীয় আইনি পরামর্শদাতা তিলক চন্দ্র রোকা বলেন, গোর্খাল্যান্ডের সমর্থকরা দার্জিলিংয়ের আভা আর্ট গ্যালারি থেকে তেরঙ্গা যাত্রা শুরু করা হবে। পদযাত্রাটি গোয়েঙ্কা রোড, চক বাজার, মোটর স্ট্যান্ড, লেবংকার্ট রোড হয়ে জেলা কর্মকর্তার দফতরের সামনে পৌঁছানোর পর সেখানে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকে সেখানে গত ৫২ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ পালন করা হচ্ছে। এছাড়া,, গত ২১ জুলাই থেকে যুব মোর্চা সমর্থকরা আমরণ অনশন করছেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে প্রথম থেকেই বলছেন, নিজের জীবন দিতে রাজি আছি কিন্তু কিছুতেই বাংলা ভাগ হতে দেবো না। গত ১ আগস্ট মঙ্গলবারও তিনি এক জনসভায় সাফ জানিয়ে দেন, পাহাড় বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৬