ডোকলাম ইস্যুতে ভারতের পাশে দাঁড়াতে পারে আমেরিকা: মার্কিন বিশেষজ্ঞের অভিমত
https://parstoday.ir/bn/news/india-i44076-ডোকলাম_ইস্যুতে_ভারতের_পাশে_দাঁড়াতে_পারে_আমেরিকা_মার্কিন_বিশেষজ্ঞের_অভিমত
ভারত ও চীনের মধ্যে ডোকোলাম নিয়ে সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে চলমান টানাপড়েনে ভারতের পাশে দাঁড়াতে পারে আমেরিকা। এ কথা বলেছেন আমেরিকার নাভাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জেমস আর. হোমস।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ১৩, ২০১৭ ১৪:১৭ Asia/Dhaka
  • প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জেমস আর. হোমস
    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জেমস আর. হোমস

ভারত ও চীনের মধ্যে ডোকোলাম নিয়ে সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে চলমান টানাপড়েনে ভারতের পাশে দাঁড়াতে পারে আমেরিকা। এ কথা বলেছেন আমেরিকার নাভাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জেমস আর. হোমস।

ডোকলাম ইস্যুতে ভারত আমেরিকার সাহায্য না চাইলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে ভারতের সমর্থনেই এগিয়ে আসার কথা বলেছেন হোমস।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হোমস বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার উপদেষ্টারা হয়তো চান না হিমালয় পার্বত্য এলাকার ওই বিতর্কে আমেরিকা নাক গলাক। কিন্তু ওই বিরোধ যদি আরো বাড়ে, তাহলে হয়তো নয়াদিল্লির সমর্থনেই ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসতে হবে।

হোমস বলেছেন, এখনো পর্যন্ত ভারত যা করেছে এবং যে অবস্থান নিয়েছে, তার সবগুলোই ঠিক। ওই বিরোধ জিইয়ে রাখার জন্য নয়াদিল্লি উসকানি দিচ্ছে না। বেইজিংয়ের মাত্রাছাড়া মেজাজ, ঔদ্ধত্যেরও যুতসই জবাব দিতে দেখা যায়নি দিল্লিকে। ওই ইস্যুতে ভারতের আচরণ একেবারেই প্রাপ্তবয়স্কের মতো এবং চীনের আচরণ কিশোরসুলভ।

চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হোমস বলেন, হিমালয়ে চীনের চেয়ে ভৌগোলিক সুবিধা অনেক বেশি ভারতের। সেখানে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে নামলে চীনকে অনেক বেশি খেসারত দিতে হবে।

এদিকে, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে গতকাল (শনিবার) ভারত ও চীনের মেজর জেনারেলদের নেতৃত্বে নাথু লা পাসে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। কিন্তু, তাতে কোনো সমাধানসূত্র পাওয়া যায়নি।

এরপরেই যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ভারত উত্তর-পূর্ব চীন সীমান্তে আরো বেশি করে সেনা মোতায়েন করেছে। বিমান বাহিনীকেও উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, কাশ্মির, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মোট ৩ হাজার ৪৮৮ কিমি সীমান্ত রয়েছে। সেজন্য ওই অঞ্চলেই কমপক্ষে ৪৫ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

এভারেস্ট শৃঙ্গ

এদিকে, ভারত-চীন চলমান অচলাবস্থার মধ্যে বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ এভারেস্টের উচ্চতা পরিমাপের কাজ থমকে গেছে। সার্ভে অব ইন্ডিয়া নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে ওই পরিমাপের কাজ করতে আগ্রহী হলেও নেপালের পক্ষ থেকে সাড়া দেয়া হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে মাস তিনেক আগে ওই প্রকল্পের জন্য নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

১৯৫৫ সালে এভারেস্টের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার স্থির হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এভারেস্টের উচ্চতায় হেরফের হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

ভারত-চীন সম্পর্কের অবনতির মধ্যে নেপাল ভারতের প্রস্তাবকে কার্যত ঠাণ্ডাঘরে ফেলে দিয়েছে। নেপাল ভারতের সঙ্গে ওই প্রকল্পে শামিল হয়ে চীনের বিরাগভাজন হতে চাচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাছাড়া নেপালের সাড়া না দেয়ার নেপথ্যে চীনের হাত রয়েছে বলেও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩