পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই: ভারতের সাবেক এমপি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i52547-পাকিস্তানের_সঙ্গে_আলোচনা_ছাড়া_কোনো_গত্যন্তর_নেই_ভারতের_সাবেক_এমপি
রাজৌরি সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে কর্মকর্তাসহ ভারতীয় চার সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (সোমবার) জম্মু-কাশ্মির বিধানসভায় তুমুল গোলযোগ হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার কবিন্দর গুপ্তা কিছুক্ষণের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৮ ১৭:২৬ Asia/Dhaka

রাজৌরি সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে কর্মকর্তাসহ ভারতীয় চার সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (সোমবার) জম্মু-কাশ্মির বিধানসভায় তুমুল গোলযোগ হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার কবিন্দর গুপ্তা কিছুক্ষণের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন।

এ প্রসঙ্গে আজ ভারতের সাবেক এমপি মইনুল হাসান (সোমবার) রেডিও তেহরানকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। ভারতের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান ভিত্তি হচ্ছে তার প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনাকে অনেক বেশি রাজনীতিকরণ করে ফেলা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপারে মনে করি যে দু’দেশের মধ্যে সর্বোচ্চস্তর থেকে সংলাপ শুরু করা দরকার। উভয়পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ভারতের পাকিস্তান বিদ্বেষ শুধুমাত্র নির্বাচন জেতা এবং দেশের অভ্যন্তরে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। এর ফলে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ ও জওয়ানরা শহীদ হচ্ছেন। আমাদের এটা ভালো লাগছে না।’  

তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিবেশি দেশ আমাদের শত্রু হতে পারে না। যদি প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের শত্রুতা বাড়তে থাকে, বিশেষকরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব না থাকে তাহলে দেশের যে উন্নয়নের কথা আমরা বলি সেই উন্নয়ন অত্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত হবে। সেই কারণের জন্য সংলাপ ছাড়া বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।’  

ভারতের ৪ সেনা নিহত

সাবেক এমপি মইনুল হাসান বলেন, ‘পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ শান্তি চায়, ভারতের সাধারণ জনগণও শান্তি চায়। দেশ আসলে মানুষের জন্য। কতগুলো রাষ্ট্রনেতা তাদের অহমিকা, তাদের নানা ধরণের ইচ্ছা ও কু-ইচ্ছাকে চরিতার্থ করার জন্য যদি যুদ্ধের উত্তেজনাকে বাড়িয়ে রাখে সেটা একটা চূড়ান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়। আমি সব সময় আমাদের জওয়ান ও সাধারণ নিরীহ মানুষের পক্ষে। সীমান্ত এলাকায় শান্তির জন্য সকলকে সচেষ্ট হতে হবে।’  

তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার, তারা শান্তি আনার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য নানারকম কাজ করছে, চেষ্টা করছে কিন্তু এদের প্রত্যেকটি উদ্যোগ হচ্ছে দিশাহীন। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রী কী করবেন তারা নিজেরাই বুঝতে পারছেন না। আচমকা কোনো প্রস্তুতি ছাড়া, নোটিশ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেন পাকিস্তানে সেখানকার  প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে! এবারই দেখা গেল আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবসে (২৬ জানুয়ারি) চিরায়ত নিয়ম হচ্ছে দু’দেশের সেনাদের মধ্যে সীমান্তে মিষ্টি বিনিময় করা, কিন্তু এবার সেটা করা হয়নি। তাহলে পররাষ্ট্র নীতির যে ধারাবাহিকতা, সেই ধারাবাহিকতাকে ভারত রক্ষা করতে পারছে না। পাকিস্তানের দিকে থেকেও তাই। দুই দেশের এক সঙ্গে বসে রাস্তা খোঁজার দরকার নইলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের জওয়ান ও সাধারণ মানুষ, তারা শহীদ হচ্ছেন। আর রাষ্ট্র নেতারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে ভাষণ দিচ্ছেন তা অবিলম্বে বন্ধ করে শান্তি আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।’

এদিকেকেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ আহির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং এ বছর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সংখ্যা বেশি। গতকাল (রোববার) তারা পুনরায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। আমরা পাকিস্তানের কৃতকর্মকে ক্ষমা করব না।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫