নীরব, বিজয় মালিয়ারা পালিয়ে গেলেও মোদির মুখে কথা নেই: রাহুল
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, নীরব মোদি, বিজয় মালিয়া, ললিত মোদি কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলেও নিজেকে দেশের চৌকিদার বলা প্রধানমন্ত্রীর মুখে একটিও কথা নেই।
তিনি আজ (রোববার) কর্ণাটকে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
রাহুল বিজেপিশাসিত গুজরাটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গুজরাটে গরীবদের জমি কেড়ে নিয়ে শিল্পপতিদের দিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে, কর্ণাটক সরকার (কংগ্রেসশাসিত) গরীবদের জন্য কাজ করছে এবং তাদের রেশন দিচ্ছে।’
রাহুল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা করেন না। প্রধানমন্ত্রী কয়েক কোটি যুবকের চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু তা পূর্ণ করেননি। প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১৫ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও পূর্ণ করেননি। প্রধানমন্ত্রী দেশের চৌকিদার হতে চান কিন্তু যখন আপনি কর্ণাটকে আসেন তখন আপনার আশেপাশে জেলে যাওয়া লোকজন উপস্থিত থাকে। অমিত শাহের (বিজেপি সভাপতি) ছেলে জয় শাহের তিন মাসের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ৮০ কোটিতে পরিণত হলেও আপনার মুখ দিয়ে একটি শব্দও বেরোয় না। আপনি গোটা দেশকে ব্যাংকের লাইনে দাঁড় করিয়ে দিলেন কিন্তু নীরব মোদি মানুষের ২২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলো। বিজয় মালিয়া, ললিত মোদিরাও পালিয়ে যায় কিন্তু দেশের চৌকিদার কিছুই বলেন না!"
রাহুল গান্ধী কন্নড় কবি বাসবান্নার কথা উল্লেখ করে বলেন, "বাসবান্নাজি শান্তির কথা বলতেন কিন্তু আপনি যেখানেই যান বিদ্বেষ ছড়ান। কেন্দ্রীয় সরকার কেবল ধনীদের জন্য কাজ করছে কিন্তু কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার সকলের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেছে।"
রাহুল বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম কৃষকদের ঋণ মওকুফ করে দেয়া হোক কিন্তু তিনি এর কোনো উত্তর দেননি। প্রধানমন্ত্রী দলিত ও আদিবাসীদের নিয়ে ভাষণ দেন। কর্ণাটক সরকার তপসিলি জাতি-উপজাতির লোকেদের ২৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার গোটা দেশের দলিত ও আদিবাসীদের জন্য মাত্র ৫৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।’ বিজেপি সরকার গুজরাটে বড় শিল্পপতিদের জমি দিচ্ছে, কিন্তু কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার গরীবদেরকে এক টাকা কিলো দরে চাল দিচ্ছে। এটাই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে পার্থক্য বলে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন।
ভারতে দুর্নীতি সুরক্ষিত: ভানু সরকার
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ভারত সরকার বা নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার হোক কেন একটা জিনিস স্পষ্ট যে, ভারতে দুর্নীতি সুরক্ষিত। কেউ দুর্নীতি করলে সে সুরক্ষা পাবে। কৃষক যদি তার ব্যাংক ঋণের টাকা দিতে না পারে তাহলে আতঙ্কে সে আত্মহত্যা করে অথবা পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায় বা ব্যাংকের লেলিয়ে দেয়া গুণ্ডারা তাকে পেটায়। কিন্তু বিজয় মালিয়া, ললিত মোদি, নীরব মোদি, মেহুল চোকসিরা এরা সকলেই সরকারি সহযোগিতায় বিদেশে গিয়ে আরামে থাকে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, এদের সকলেরই পাসপোর্ট তখনই বাতিল করা হয়েছে, যখন তারা বিদেশে চলে গেছেন। এরা এমন এমন দেশে থাকে, যেখান থেকে অপরাধীদের ধরে আনার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের বিভিন্ন সমস্যা আছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/এআর/২৫