কাশ্মিরে বনধ পালন, সীমান্তে গুলি বিনিময়: কর্মকর্তাসহ আহত ৫ ভারতীয় সেনা
-
কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত।
কাশ্মিরে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের আহ্বানে আজ দ্বিতীয় দিনেও সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। গতকাল ও সেখানে বনধ পালিত হয়।
গত (রোববার) সোপিয়ান ও অনন্তনাগে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ গেরিলা ও ৪ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া কমপক্ষে দু’শত বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এরমধ্যে বেশ কিছু মানুষ বুলেট ও পেলেটগানের ছররা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে কাশ্মিরি নেতারা বনধের ডাক দেন। সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ সদস্যও নিহত হয়েছেন।
আজ (মঙ্গলবার) সেখানকার সমস্ত দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি দফতরসহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কিছু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গোলযোগপূর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিসেবাও বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, আজ সকালে পুঞ্চ জেলার মেন্ধরের কৃষ্ণাঘাঁটি সেক্টরে ভারত ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণ হয়। এসময় পাকবাহিনীর গুলিতে এক কর্মকর্তাসহ পাঁচ ভারতীয় সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। আহত লেফটেন্যান্ট কাল্লামপুট্টি ভার্গভ (২৩), নায়েব সুবেদার মহল্যা বিকাশ মতিলাল (৫৩) এস এস কাশিনাথ (৩৭), নায়েক ধুমল সন্দীপ (৩৫) এবং সিপাহী এম শুভমকে (২১) উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানযোগে উধমপুরে কম্যান্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বন্দি মুক্তি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘সরকার কাশ্মিরি জনগণের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ও যুদ্ধ চালাচ্ছে। এবং একতরফা যুদ্ধ চালাচ্ছে।
মানুষ সরকারি বাহিনী, সেনাবাহিনীর অত্যাচারের প্রতিবাদে গোটা পৃথিবীতে দেখা গেছে মানুষ গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ছে। কিন্তু ভারত সরকার ও সেনাবাহিনী অসংখ্য কাশ্মিরি কিশোর-কিশোরীকে ইট ছোঁড়ার অপরাধে চিরকালের মতো অন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। পৃথিবীটা তাদের কাছে অন্ধকার।’ ছোটন দাস এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনাই একমাত্র সমস্যা সমাধানের উপায় বলেও মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, কাশ্মিরে একনাগাড়ে মৃত্যুর ঘটনায় সিপিআই (এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং কুলগামের বিধায়ক মহম্মদ ইউসুফ তারিগামি বলেছেন, "কাশ্মিরে অনিশ্চয়তা গভীরতর হয়ে উঠেছে। সমস্ত স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এই বিষয়ে রাজনৈতিক আত্মসমীক্ষার সময় এসেছে।"
বিধায়ক ইউসুফ তারিগামী এক বিবৃতিতে বলেছেন, "মানবিক আবেদন এবং আচরণের প্রয়োজন, যা কাশ্মিরে স্থায়ী শান্তির পথ খুলবে।" ‘বিশ্বাসভঙ্গের দীর্ঘ ইতিহাস, দমনপীড়ন, সামাজিক-অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া ইত্যাদির কারণে কাশ্মিরের মানুষের মধ্যে যে গভীর এবং ব্যাপক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে তারই পরিণতিতে অশান্তি চলছে বলেও মন্তব্য করেন সিপিআইএম নেতা ইউসুফ তারিগামী ।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/৩