কাশ্মিরে ৪ মাসে ৫৬ গেরিলা নিহত, উচ্চশিক্ষিতরাও হাতে তুলে নিচ্ছেন বন্দুক!
https://parstoday.ir/bn/news/india-i56730-কাশ্মিরে_৪_মাসে_৫৬_গেরিলা_নিহত_উচ্চশিক্ষিতরাও_হাতে_তুলে_নিচ্ছেন_বন্দুক!
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৬ গেরিলা নিহত হয়েছেন। গেরিলাদের নির্মূল করতে সেনাবাহিনী নয়াকৌশল নিয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মে ০৪, ২০১৮ ০৭:৫২ Asia/Dhaka
  • নিহত এক কাশ্মিরির মরদেহ নিয়ে মিছিল
    নিহত এক কাশ্মিরির মরদেহ নিয়ে মিছিল

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৬ গেরিলা নিহত হয়েছেন। গেরিলাদের নির্মূল করতে সেনাবাহিনী নয়াকৌশল নিয়েছে।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্রে প্রকাশ, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসীরা যাতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে সেজন্য সীমান্তে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে ‘অপারেশন অল আউট’কর্মসূচি চালু থাকার ফলে চার মাসে ৫৬ জন দেশি ও বিদেশি গেরিলা নিহত হয়েছে।

এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বিদেশি গেরিলাদের পাশাপাশি এখন স্থানীয় গেরিলারা রীতিমত সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশ, স্থানীয় উচ্চশিক্ষিত তরুণরাও এখন হাতে বন্দুক তুলে নেয়ায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কাশ্মিরি তরুণরা

এমবিএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা তরুণরাও এখন হাতে বন্দুক তুলে নিচ্ছেন। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৪৫ যুবক অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জন সোপিয়ানের এবং ৩ জন কুলগামের। একইভাবে অনন্তনাগে ৭, পুলওয়ামাতে ৪ এবং অবন্তিপোরাতে ৩ যুবক রয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তর কাশ্মিরের হান্দওয়াড়া, কূপওয়াড়া, বান্দিপোরা, সোপোর ও শ্রীনগর থেকে বেশকিছু তরুণ নিরুদ্দেশ হয়েছেন। কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করার পর গেরিলা দলে যোগ দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী জুনাঈদ আশরাফ। তার বাবা মুহাম্মদ আশরাফ তেহরিক-ই-হুররিয়াতের সভাপতি।

কূপওয়াড়ার পিএইচডি গবেষক ২৬ বছর বয়সী মান্নান বাশীর ওয়ানীও গেরিলাদলে যোগ দিয়েছেন। তিনি এরআগে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

হিজবুল মুজাহিদীনের কমান্ডার বুরহান ওয়ানি

সেনাবাহিনীর এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি একটু কঠিন হচ্ছে। আমরা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়ছি, তাদের হত্যা করছি এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করছি। কিন্তু পরের দিন সামাজিক গণমাধ্যমে ফের কোনো নয়া সন্ত্রাসী তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া উচিত।’

কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, নিহত কোনো স্থানীয় গেরিলা দাফন হওয়ার পরেই কমপক্ষে দুই জন গেরিলা সদস্য নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সত্যিই বড় উদ্বেগের বিষয়।

২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদীনের শীর্ষ কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর কাশ্মির উপত্যাকায় গেরিলা তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুমান যে ঠিক নয় তা সাম্প্রতিক ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩