কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত: মালিক গ্রেফতার, গিলানী-ওমর গৃহবন্দি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i59302-কাশ্মিরে_সর্বাত্মক_বনধ_পালিত_মালিক_গ্রেফতার_গিলানী_ওমর_গৃহবন্দি
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যেদ সুজাত বুখারী ও বেসামরিক ব্যক্তি হত্যার প্রতিবাদে সর্বাত্মক বন্ধ পালিত হয়েছে।  
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জুন ২১, ২০১৮ ১০:৫৩ Asia/Dhaka

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যেদ সুজাত বুখারী ও বেসামরিক ব্যক্তি হত্যার প্রতিবাদে সর্বাত্মক বন্ধ পালিত হয়েছে।  

আজ (বৃহস্পতিবার) সেখানকার দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন রুটে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বেসরকারি ক্যাব ও তিন চাকার গাড়ি চলাচল করলে সড়কে মানুষজনের উপস্থিতি প্রায় নেই।

আজ সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শ্রীনগরের ডাউনটাউন এলাকায় কারফিউয়ের মতো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, হুররিয়াত কনফারন্সের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দি ও জে কে আএল এফ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।  

মীরওয়াইজ ওমর ফারুক, আলী শাহ গিলানী ও মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিক

উত্তর কাশ্মিরের সোপোর, হান্দওয়াড়া, পাট্টান, সাম্বাল, হাজিন ও অন্যান্য এলাকায় সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সোপোর, বারামুল্লা, পাট্টান ও রাফিয়াবাদ এলাকায় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

একইভাবে দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান, পুলওয়ামা, কুলগাম ও অনন্তনাগে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে।

কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত

সাইয়্যেদ আলীশাহ গিলানী, মীর ওয়াইজ ওমর ফারুক এবং মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সেখানকার প্রখ্যাত সিনিয়র সাংবাদিক সুজাত বুখারী ও বেসামরিক মানুষজনকে হত্যার প্রতিবাদে কাশ্মির উপত্যকায় আজ (বৃহস্পতিবার) সর্বাত্মক বনধ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।   

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার কর্মীরা বহুদিন ধরে বলে আসছি কাশ্মিরে বিশেষকরে ৯০ সালের পর থেকে যেভাবে মিলিটারিরা প্রায় ৯৪ হাজারেরও বেশি, আমাদের হিসাবে ৯৮ হাজার সাধারণ মানুষকে তারা হত্যা করেছে, নিখোঁজ করেছে, কমপক্ষে সাত হাজারের মতো গণকবর পাওয়া গেছে। বুরহান ওয়ানিকে হত্যা করার পরে সম্প্রতি কাশ্মিরে যে গণবিক্ষোভ, অল্পবয়সী বাচ্চাদের ছররা গুলি দিয়ে চোখ নষ্ট করে দেয়া, তাদের জীবন ‘বরবাদ’ করে দেয়ার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে চলছে। ফলে এখানে প্রতিবাদ স্বাভাবিক বিষয়।’

ভানু সরকার

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমরা সবসময় বলি, কাশ্মির সমস্যা গুলি, বন্দুক, কামান, ছররা গুলি বা বিদেশ থেকে যত দামি দামি অস্ত্র কিনে আনুন তাতে সমাধান হবে না। কাশ্মিরের সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা। একমাত্র আলোচনার মধ্যদিয়েই ওই সমস্যার সমাধান হতে পারে।’

ভানু সরকার বলেন, ‘কাশ্মির থেকে অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহার করা হোক, আপ্সফার মতো দমনমূলক আইন প্রত্যাহার করা হোক এবং সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। কাশ্মিরের মানুষের কথা, তাদের কী দাবি, সরকারের তা শোনা উচিত।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১