কাশ্মিরে পুলিশসহ নিহত ৬, মোদির প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করলেন বিশ্লেষক
-
নিহত পুলিশের কফিনে শ্রদ্ধা
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে বন্দুকযুদ্ধে পুলিশসহ ছয়জন নিহত ও কমপক্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) ভোরে অনন্তনাগের শ্রীগুফওয়াড়াতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাতে যায়। এ সময় গেরিলারা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় এক বেসামরিক ব্যক্তি, চার গেরিলা ও পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের এক জওয়ান নিহত হয়েছে।
আজ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বাধা সৃষ্টি করতে কয়েকশ’ প্রতিবাদী তরুণ সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখালে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তরুণরা এসময় নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ, পেলেট গান ব্যবহারসহ গুলিবর্ষণ করে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে কমপক্ষে ২০ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।
বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রতিবাদে দক্ষিণ কাশ্মিরের শ্রীগুফওয়াড়াতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জম্ম-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ) সমর্থকরা। মিছিল থেকে স্বাধীনতার পক্ষে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যার বিপক্ষে শ্লোগান দেয়া হয়।
ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ, পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে।
গেরিলারা যে বাড়িতে লুকিয়ে ছিল সেই বাড়ির মালিক মুহাম্মদ ইউসুফ রাঠের ও তার স্ত্রী হাফিজা সংঘর্ষে আহত হলে অনন্তনাগ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করলেও হাফিজাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্যসহ পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের এক সদস্য আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এক পুলিশ সদস্য মারা গেছেন।
মোদির প্রতিশ্রুতি মিথ্যায় পরিণত হচ্ছে: ফারুক
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দেয়ার সময় বলেছিলেন, কাশ্মিরের সঙ্কট মুক্তির পথ গুলিতে নেই, গালিতেও নেই, রয়েছে আলিঙ্গনে, রয়েছে ভালোবাসায়। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমরা দেখছি কাশ্মিরে মৃত্যুমিছিল চলছে। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরে শান্তি না ফেরালে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আস্ফালনে রাষ্ট্র কখনোই নাগরিকদের মন জয় করতে পারে না। আমরা জানি, নাগরিকদের মন জয় করতে গেলে আলিঙ্গনে, ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে মন জয় করতে হয়। মৃত্যু মিছিল থামিয়ে, কাশ্মিরে শান্তি ফিরিয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দিন, তিনি যে কথা দিয়েছিলেন সেই কথা তিনি রাখতে পেরেছেন। বিগত চার বছরে সেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কাশ্মির অশান্ত হয়েছে। মোদিজি’র কথা, ভাষণ সব মিথ্যায় পরিণত হচ্ছে।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২