‘কাশ্মিরে ৩৫-এ ধারা পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কবরে যাওয়া পর্যন্ত লড়ব’
-
ডা. ফারুক আবদুল্লাহ এমপি
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ এমপি বলেছেন, সংবিধানের ৩৫-এ ধারা রক্ষার জন্য শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। কবরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে। যদি সাংবিধানিক ওই সুবিধাকে বাতিল করা হয় তাহলে রাজ্যের পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে।
গত (রোববার) সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের দাবিতে এক বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে আবেদন জানানোয় ওই ইস্যুতে রাজ্যটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ৬ আগস্ট আদালতে বিষয়টি উত্থাপিত হলে আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
ডা. ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ওদের কেবল কাশ্মিরের কথা মনে আসে, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের কথা নয়।
৩৫-এ ধারা বাতিল করা হলে কাশ্মিরের পরিস্থিতি কী হতে পারে- এই প্রশ্নের জবাবে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই তা দেখবেন, পরে দিল্লিও তা দেখবে এবং একে সামাল দেয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৫-এ ধারা কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। সাংবিধানিক বেঞ্চ আগেও দু’বার তা বলেছে। আমি জানি না বারবার কেন ওই ইস্যুকে খুঁচিয়ে তোলা হয়।’
৩৫-এ ধারা রক্ষার দাবিতে কাশ্মিরে বিভিন্ন সময়ে যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্ব, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি, সিপিএম, কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দল, বাণিজ্যিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে এবং এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ওই ধারা বাতিল প্রসঙ্গে বিতর্কের পক্ষপাতি। বিজেপি নেতাদের দাবি, ওই ধারা বাতিল হওয়া উচিত, কারণ এতে রাজ্যের কল্যাণ হচ্ছে না।
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ অবশ্য বলেছেন, ‘৩৫-এ ধারা কার্যকর রেখে জম্মু-কাশ্মিরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ অক্ষুণ্ণ রাখা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু করতে হলে ভারতে জম্মু-কাশ্মিরের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিতর্ক শুরু করতে হবে।’
পিডিপি নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘৩৫-এ ধারা তুলে নেওয়া হলে উপত্যকায় ভারতের জাতীয় পতাকা তোলার মতো আর কেউ থাকবে না।’
বিজেপি মুখপাত্র বীরেন্দ্র গুপ্তার দাবি, ৩৫-এ ও ৩৭০ ধারা কোনো ‘পবিত্র গাভী’ নয় যে হাত দেয়া যাবে না।
এদিকে, দলীয় লাইনের বিপরীত অবস্থানে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক গগন ভগত ওই ধারা রক্ষার পক্ষে সাফাই দেয়ায় দলটির মধ্যে বিড়ম্বনা বেড়েছে। গগন ভগত রাজ্যবাসীর স্বার্থে ওই অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
৩৫-এ ধারা অনুযায়ী, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া কেউ সেখানকার সম্পত্তি বেচাকেনা করতে পারবে না। স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সরকারি চাকরি এবং স্কলারশিপ সংরক্ষিত। কোনো কাশ্মিরি নারী অন্য রাজ্যের কাউকে বিয়ে করলে তিনি রাজ্যে বিষয়-সম্পত্তির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩