জম্মু-কাশ্মিরের নয়া গভর্নর হলেন সত্যপাল মালিক
https://parstoday.ir/bn/news/india-i63741-জম্মু_কাশ্মিরের_নয়া_গভর্নর_হলেন_সত্যপাল_মালিক
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের নয়া গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন সত্যপাল মালিক (৭২)। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজভবনে জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তল তাকে জম্মু ও কাশ্মিরের ১৩তম গভর্নর হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।  
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ২৩, ২০১৮ ১৫:২০ Asia/Dhaka
  • সত্যপাল মালিক
    সত্যপাল মালিক

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের নয়া গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন সত্যপাল মালিক (৭২)। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজভবনে জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তল তাকে জম্মু ও কাশ্মিরের ১৩তম গভর্নর হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।  

সত্যপাল মালিক এতদিন বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এবার জম্মু-কাশ্মিরের দায়িত্ব পালন করবেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ফারুক আবদুল্লাহসহ প্রায় চারশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মির প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

সত্যপাল মালিকের আগে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে জম্মু-কাশ্মিরে গভর্নরের দায়িত্ব সামলেছেন কর্ণ সিংহ। ১৯৬৭ সালে তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে গত ৫১ বছর ধরে রাজ্যটিতে গভর্নর হিসেবে সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেল কে ভি কৃষ্ণরাও, এস কে সিন্‌হা, সাবেক কূটনীতিক বি কে নেহরু বা সরকারি আমলা জগমোহন, এল কে ঝা বা এনএন ভোরার মতো সাবেক প্রশাসনিক কর্তারা।

রাজ্যটিতে গেরিলা হামলা বাড়তে থাকায় সেখানে পুনরায় কোনো দক্ষ প্রশাসককে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হবে বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে গভর্নর হিসেবে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বসানোর অর্থই রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেখানকার সমস্যা সমাধানের বার্তা দেয়া।

সত্যপাল মালিক মিরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা হিসেবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি কংগ্রেসে যোগ যোগ দেন এবং রাজ্যসভার সদস্য হন।  একসময় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারে ভি পি সিংয়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, আমার মনে হয়, এই নিয়োগ দুদিক থেকে ফলপ্রসূ হতে পারে। যদি আমরা একে সদর্থকভাবে নিই অর্থাৎ যাকে নিয়োগ করা হল, তিনি যদি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নিজের অরাজনৈতিক পরিচয়টাকে বড় করে তুলতে পারেন তাহলেই এটা সদর্থক ফল ফলবে বলেই আমাদের মনে হয়। আর যদি দেখা যায় যে না তিনি তো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কাজেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কাছে তার দায়বদ্ধতা অনেক বেশি-এটাকে যদি তিনি সামনে আনেন তাহলে এটা খুব ফলপ্রসূ হবে বলে আমাদের মনে হয় না। আমার মনে হয় এখনই এটাকে কোনো পজিটিভ বা নেগেটিভ দৃষ্টিতে না দেখে আমরা সময়ের জন্য অপেক্ষা করি। সময়ই বলে দেবে এর ফলাফল কী দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি ভালো হয় তাহলে অবশ্যই আমরা তাকে সাধুবাদ জানাব। আর যদি মনে হয় এরফল ভালো হচ্ছে না তাহলে আমরা আমদের মতো করে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে যে কথা বলার বা যে প্রতিবাদ করার তা করার চেষ্টা করব। আমার খুব বিশ্বাস হয়তো এর মধ্যে কোনো সদর্থক চিন্তাভাবনা আছে। তবে সময়ই বলবে শেষপর্যন্ত কী ফল দাঁড়াবে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৩  

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন