ভারতে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে অসম ও মিজোরামে বিক্ষোভ
ভারতে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৬-এর প্রতিবাদে অসম ও মিজোরামে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল (বুধবার) গুয়াহাটিতে অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) ডাকা 'খিলঞ্জীয়া বজ্রনিনাদ' নামক বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, মিজরামের আইজল শহরে ওই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সমাবেশে প্রায় দশ হাজার মিজো ছাত্র অংশগ্রহণ করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের আনা প্রস্তাবিত ওই বিল মিজো সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিরোধী ওই বিল আইনি রূপ পেলে মিজোরাম স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে লড়তেও পিছপা হবে না বলে 'মিজো জিরলাই প্লে'র সভাপতি রামদিনলিয়ানা রেন্থলেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এ দিনের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
অন্যদিকে, বুধবার অসমের গুয়াহাটির লতাশীল ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশে অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) সদস্যসহ ৩০টি সংগঠনের সদস্যরা প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হন।
‘আসু’র উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওই বিল গোটা উত্তরপূর্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। সেজন্য শুধু অসম নয়, প্রতিবেশি রাজ্যগুলোকেও এর বিরোধিতায় এগিয়ে আসতে হবে। অসমকে আমরা ত্রিপুরা বানাতে দেবো না।’
‘আসু’র সভাপতি দীপাঙ্ক নাথ বলেন, ‘বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি চলবে না। বিদেশি, বিদেশিই, এরসঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি রাজ্যের সর্বত্র বিল বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন।

অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ ওই প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিনের সমাবেশে শিক্ষার্থী, সঙ্গীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিকসহ অসমিয়া সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত ওই বিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও পার্সি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরফলে স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়াসহ বিভিন্ন সঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে বিল বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন।
যদিও অসম রাজ্য বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাসের দাবি, অসম চুক্তির ৬নং দফা কার্যকরী হলে ভূমিপুত্রদের হাতেই রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকবে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও বিজেপি নেতা রঞ্জিত দাস অভিযোগ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আমসু) উপদেষ্টা ও অসমের সংখ্যালঘু সংগঠনসমূহের সমন্বয় সমিতির মুখ্য আহ্বায়ক আইনজীবী আজিজুর রহমান আজ (বৃহস্পতিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘প্রথম কথা হল ২০১৬ সালে অসমে যখন বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল তখন ওনারা (বিজেপি নেতারা) বলেছিলেন, অসমে যত ‘বাংলাদেশি’ আছে সব বাংলাদেশিদেরকে বিতাড়ন করবেন। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে ওনারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এখন ওনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মুসলিমদের বাদ দিয়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বিশেষভাবে ‘হিন্দু বাঙালিদের’কে সংস্থাপন দেয়ার জন্য ওনারা একটা বিল এনেছেন। গোটা অসমসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে ওই বিলের বিরোধিতা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বিজেপি এমন কোনো বস্তু না যে ওনারা অন্যায় করে গেলেও অসম বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনসাধারণ ওদেরকে আদর করবে। এরইমধ্যে জনসাধারণ বলছে, বিজেপি যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে এবং নাগরিকত্ব বিল প্রত্যাহার না করে তাহলে যখন তাদের সময় আসবে তাদেরকে পরিবর্তন করে শিক্ষা দেবে। অসমসহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য যেমন মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়ে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। আপনারা জানেন মেঘালয় ও মিজরামের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওনারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওই বিল তাঁরা কোনোভাবেই পাস হতে দেবেন না। উত্তর-পূর্বাঞ্চলবাসীরা ওই বিল মানবে না।’
‘আমসু’ উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট যে, ‘অসাংবিধানিক ও ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব’ দেয়ার প্রস্তাব সম্বলিত ওই বিলকে আমরা কোনোভাবেই মানি না। বিজেপি যদি এব্যাপারে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে ওদের ক্ষতি হবে, জনসাধারণ ওদেরকে বয়কট করবে। গোটা অসমে এরইমধ্যে বিজেপি বিরোধী ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে।’
এরফলে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিজেপি একদম নির্মূল হয়ে যাবে বলেও ‘আমসু’ উপদেষ্টা আজিজুর রহমান মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন