সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে হিমন্ত বিশ্বশর্মার গ্রেফতার দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i67636-সাম্প্রদায়িক_বিদ্বেষ_ছড়ানোর_অভিযোগে_হিমন্ত_বিশ্বশর্মার_গ্রেফতার_দাবি
ভারতের অসমের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার দাবি জানাল কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর অভিযোগে অসম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের বিধায়ক দেবব্রত শইকিয়া পুলিশের কাছে ওই দাবি জানিয়েছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জানুয়ারি ২৭, ২০১৯ ০৮:৪৫ Asia/Dhaka
  • হিমন্ত বিশ্বশর্মা
    হিমন্ত বিশ্বশর্মা

ভারতের অসমের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার দাবি জানাল কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর অভিযোগে অসম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের বিধায়ক দেবব্রত শইকিয়া পুলিশের কাছে ওই দাবি জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠির প্রতিলিপি তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান সচিবকেও পাঠিয়েছেন।

দেবব্রত শইকিয়া বলেন, ‘মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নাগরিকত্ব বিল সমর্থন করতে গিয়ে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছেন। সর্বত্র হিন্দু অনুপ্রবেশকারী ও মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পৃথক নীতির দাবি জানিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সরাসরি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছেন। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের শপথ নিয়ে মন্ত্রী হওয়ার পরে এবার প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করছেন হিমন্ত। তাঁর উসকানিমূলক মন্তব্যে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পথ প্রশস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৩ (এ) ও ২৯৫ (এ) ধারায় মামলা রুজু করতে হবে।’

দেবেন ভট্টাচার্য

'বিজেপি-আরএসএস সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত'  

এদিকে কংগ্রেসের চেয়ে এক ধাপ উপরে উঠে সিপিএমের পক্ষ থেকে মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে। দলটির রাজ্য সম্পাদক দেবেন ভট্টাচার্য ওই দাবি জানিয়েছেন।

তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুতে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক প্রচারে লিপ্ত হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করছেন। নানা অসত্য প্রচার ও এর মধ্যে মুসলিম বিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করা একজন ব্যক্তির সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টির জন্য প্রকাশ্যে প্ররোচনা দেয়া ক্ষমাহীন অপরাধ।’

দেবেন বাবু বলেন, ‘আইন-আদালত দ্বারা শনাক্তকরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো লোককে ‘বাংলাদেশি’ বলে ছাপ মেরে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অসমে বিদেশি নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ও নিরীক্ষণে এনআরসি উন্নীতকরণের কাজ চলছে। কিন্তু বিজেপি ওই প্রক্রিয়া বানচাল করতে ‘ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব’ প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছে। অসমবাসী তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার ফলে এখন প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত হয়েছে বিজেপি-আরএসএস নেতৃত্ব।’

বিজেপির সাম্প্রদায়িক প্রচারের ফলে রাজ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হলে বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে বলেও অসমে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক দেবেন ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন। তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাজ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি

'হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে অনেক আগেই গ্রেফতার করা উচিত ছিল’

এ প্রসঙ্গে অসম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন,  'হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে ভারতের সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে অবমাননা করার জন্য অনেক আগেই সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বা দল ভারতে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো এত খোলাখুলি ও নগ্নভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কোনো দায়িত্বশীল  ব্যক্তি ইতিপূর্বে করেননি। এরপরেও আমরা অবাক হচ্ছি যে, প্রশাসন এখনও কেন তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না!  অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল সাহেব যথেষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি জাতি সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় কথা বলেছেন, কাজ করেছেন। কিন্তু এব্যাপারে উনি নীরব হয়ে আছেন, কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সরকারও এ ব্যাপারে  কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এরফলে আমাদের ধারণা হচ্ছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে অসম ও ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থ আদায় করার জন্য।’ 

তিনি বলেন, ‘ভারতের জাতীয় কংগ্রেস হোক বা বামপন্থি দল হোক যারাই হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাতে আমাদের সমর্থন আছে। শুধু সমর্থনই নয়, আমাদেরও দাবি দেশের শান্তি ও সম্প্রীতিকে রক্ষা করার জন্য ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের উপরে ভারতবাসীর আস্থাকে অটুট রাখার জন্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষকে অতি শিগগিরি তাঁর দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৭  

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন