নাগরিকত্ব বিল পাসের পথেই এগিয়ে চলেছি: তথাগত রায়
https://parstoday.ir/bn/news/india-i71156-নাগরিকত্ব_বিল_পাসের_পথেই_এগিয়ে_চলেছি_তথাগত_রায়
ভারতের মেঘালয়ের রাজ্যপাল ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বিজেপি নেতা তথাগত রায় নাগরিকত্ব বিল পাশের উপরে জোর দিয়েছেন। তিনি আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরে মতুয়াধাম ঠাকুরবাড়িতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় এ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তথাগত বাবু ভারতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেয়ার তীব্র বিরোধিতায় সোচ্চার হন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১২, ২০১৯ ১৪:৫২ Asia/Dhaka

ভারতের মেঘালয়ের রাজ্যপাল ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বিজেপি নেতা তথাগত রায় নাগরিকত্ব বিল পাশের উপরে জোর দিয়েছেন। তিনি আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরে মতুয়াধাম ঠাকুরবাড়িতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় এ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তথাগত বাবু ভারতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেয়ার তীব্র বিরোধিতায় সোচ্চার হন।

তথাগত বাবু বলেন, ‘ভারত সরকারের নীতি অনুযায়ী আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেন যে আমরা নাগরিকত্ব বিল পাস করাবোই, করাবোই, করাবোই। সেই পথেই আমরা এগিয়ে চলেছি।’  তিনি এদিন মতুয়াদের প্রাণপুরুষ প্রয়াত প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষে এক স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন। 

তথাগত বাবু বলেন, ‘আমার কর্তব্য ভারত সরকারের নীতি আপনাদের সামনে তুলে ধরা। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে আমার অসুবিধা আছে। আজকে যে মহাপুরুষের স্মৃতিতে এখানে এসেছি সেই প্রমথরঞ্জন ঠাকুর যিনি হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাদ ঠাকুরের পরম্পরা বহন করে এখানে এসেছেন যার ফলে এতবড় মন্দির আপনারা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন, এতবড় মণ্ডপ তৈরি করতে পেরেছেন।’  

তথাগত বাবু নিজেকে ইতিহাস গবেষক হিসেবে উল্লেখ করে  বলেন, ‘১৯৫০ সালে বিশেষকরে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা থেকে কীভাবে কুকুরের মত মানুষকে তাড়ানো হয়েছিল, আপনারা তা আন্দাজ করতে পারবেন না। কীভাবে গলা কেটে ফেলা হয়েছিল! যে বাড়ির মালিক ছিল সেই বাড়ির মালিকের গলা কেটে তার কাটা মুণ্ডু সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। বরিশালের একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক তার যারা ছাত্র ছিল তারা তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। তার চারপাশে ছাত্ররা পায়ে ঘুঙুর বেঁধে নেচেছিল! এরকম নৃশংসতা হয়েছে। এরপরে কত বড় ভণ্ড হলে একথা বলা যায় যে, যারা ওই অত্যাচার করেছিল চোরাপথে এখানে ঢুকেছে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। তাদের এখানে থাকবার সুবিধা দিতে হবে! কখনওই না। ইতিহাস সেকথা বলে না। এটা চরম ভণ্ডামি। এটা করলে মানুষের সর্বনাশ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মত যে মানুষরা তার মধ্যে আমিও আছি। আমার বাড়ি ছিল কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আমরা যারা এসেছি এখানে ছিন্নমূল হয়ে, আমরা যারা এখানে নিজের জোরে নিজেদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি, আমাদের অধিকার আবার ওই অত্যাচারীরা কখনওই ছিনিয়ে নিতে পারবে না। এই জিনিস আজকে বলা হচ্ছে, কিন্তু ঘটনা ঘটছে বহুকাল থেকে। ১৯৭০-এর দশক ও তারও আগে থেকে এভাবে চোরাপথে এরা ঢুকছে। যারা আপনাদের অত্যাচার করে তাড়িয়েছিল, যারা আমাদের সর্বনাশ করেছিল, যারা আমাদের মেয়েদের বলাৎকার করেছিল, যারা আমাদের ধনসম্পত্তি কেড়ে নিয়েছিল, যারা আমাদের পথের ভিখিরি করেছিল, তারাই আবার ঢুকছে (ভারতে)! কোন  সাহসে লোকে বলে যে এদেরকে নাগরিকত্ব দিতে হবে?’

তথাগত বাবু বলেন, ‘বাংলা বিভাজনে একটা বিচিত্র অবস্থা হয়েছিল। ওই দিক থেকে (বাংলাদেশ) শুধু মানুষ  এসেই ছিল। এই দিক থেকে কেউ যায়নি। সেটা না হয় বোঝা গেল। কারণ কাউকে জবরদস্তি করে পাঠিয়ে দেয়া যায় না। কিন্তু যারা আমাদের ওইদিক থেকে বিতাড়ন করেছিল, তারা কোন অধিকারে আমার এখানে আসছে? তারা কোন অধিকারে এখানে নাগরিকত্ব চাচ্ছেন? যারা অত্যাচারিত হয়ে আসছে এবং যারা অত্যাচারী ছিল এই দু’জনকে একাসনে বসাবার জন্য কারা আন্দোলন করছে, কারা চেঁচামেচি করছে, কারা ষড়যন্ত্র করছে? এই কথাগুলোর উত্তর দিতে গেলে রাজনৈতিক কথা হয়ে যাবে যা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আমি শুধু ইতিহাস চর্চা করতে চাই। তথাগত বাবু কেবল প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের স্মৃতিচারণ করার জন্য এসেছেন বললেও বিগতদিনের অনেক তথ্য উল্লেখ করেছেন যাতে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।# 

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।