পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ট্রাক ধর্মঘটের ফলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বাংলাদেশের বেনাপোল থেকে সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত এক প্রতিনিধিদল ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে এসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনায় বসেন। সেখানে ভারতীয় সাতটি ট্রাক সমিতির যৌথ সংগঠন ও বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা হয়।
পরে বিকেলে ভারতীয় ট্রাক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে গিয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিন সন্ধ্যায় তারা বেনাপোল থেকে পেট্রাপোলে ফিরে আসেন। এভাবে আজ দিনভর দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বৈঠক ও সংলাপ হলেও সমস্যার জট না কাটায় এদিন আমদানি-রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং স্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘বুধবারও কিছু সময়ের জন্য হয়ত বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। এদিন বেনাপোলে সেদেশের স্থানীয় এমপি শেখ আফিলদ্দিনের সঙ্গে পুনরায় আমাদের বৈঠক হবে। আশা করা যায় সমাধান সূত্র বেরোবে। সমস্যা মিটে গেলে পুনরায় দু’দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হলে বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে।’
এ ব্যাপারে বনগাঁ মোটর ওনার্স এসোসিয়েশনের সম্পাদক দিলীপ দাস বলেন, ‘পেট্রাপোল বন্দর থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে গেলে সেখানকার মাল খালাসে যুক্ত শ্রমিকরা প্রত্যেক গাড়ির চালকের কাছ থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দাবি জানান যা অবৈধ। চাহিদামত টাকা না দিতে পারলে গাড়িতে মাল কম ইত্যাদি নানা অজুহাতে ভারতীয় ট্রাক চালকদের হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। বেনাপোলে মাল খালাসের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের অন্যায় দাবির ফলে ট্রাক চালকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠায় পেট্রাপোল বন্দর থেকে মঙ্গলবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। অবিলম্বে সেখানকার অর্থনৈতিক অত্যাচার বন্ধ না হলে আমরা সেখানে ট্রাক নিয়ে যাব না।’
এশিয়ার বৃহত্তম পেট্রাপোল স্থলবন্দর থেকে দৈনিক কয়েকশ’ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি-রফতানি হয় পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দরের মধ্যে দৈনিক ৩০০/৪০০ পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশের বেনাপোলে যায়। একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ১০০/১৫০ পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসে। একদিন আমদানি বন্ধ হলে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০