কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী গৃহবন্দি, ১৪৪ ধারা জারি
-
ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী শ্রীনগর আর জম্মু অঞ্চলে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় কাশ্মিরের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেহবুবা মুফতির বাড়িতে সর্বদলীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা হলে একযোগে তা প্রতিরোধ করা হবে। বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই তাঁদের কাউকে গ্রেফতার, কাউকে গৃহবন্দি করা হয়। ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি দু’জনেই টুইট করে নিজেদের গৃহবন্দিত্বের কথা জানিয়েছেন। প্রাক্তন বিধায়ক সাজ্জাদ লোনও গৃহবন্দি হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামি এবং কংগ্রেস নেতা উসমান মজিদ।
এদিকে, সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, "৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে শ্রীনগরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। জম্মু জেলাতেও সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। গোটা রাজ্যে মোবাইল টেলিফোন আর ইন্টারনেট সেবা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
কাশ্মিরে গত দশদিনে প্রায় বাড়তি পঞ্চাশ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া, অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে দিয়ে কাশ্মির থেকে পর্যটকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফিরিয়ে আনা হয়েছে যুব ক্রিকেটারদেরও। এসব কারণে কাশ্মিরবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কাশ্মিরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বা ৩৫-এ ধারা কেন্দ্রীয় সরকার বাতিল করে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। গভর্নর সত্য পাল মালিক ওই সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বার্তা না থাকায় উপত্যকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সন্দেহ এখনও দূর হয়নি। এমন জল্পনাও চলছে, আগামী ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীনগরের লালচকে গিয়ে পতাকা উত্তোলন করতে পারেন। সেজন্যই নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার চেষ্টা। যদি তা হয় তাহলে প্রবল জাতীয়তাবাদের হাওয়ায় জম্মু-কাশ্মিরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা বিজেপি’র জন্য তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫