কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি গ্রেফতার
https://parstoday.ir/bn/news/india-i72562-কাশ্মিরের_সাবেক_মুখ্যমন্ত্রী_ওমর_আবদুল্লাহ_ও_মেহবুবা_মুফতি_গ্রেফতার
শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারই করা হলো ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। রোববার রাত থেকেই গৃহবন্দি ছিলেন তাঁরা। এছাড়া, কাশ্মিরস পিপলস কনফারেন্সের দুই নেতা সাজ্জাদ লোন এবং ইমরান আনসারিকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ০৫, ২০১৯ ১৯:২৬ Asia/Dhaka
  • ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি
    ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি

শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারই করা হলো ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। রোববার রাত থেকেই গৃহবন্দি ছিলেন তাঁরা। এছাড়া, কাশ্মিরস পিপলস কনফারেন্সের দুই নেতা সাজ্জাদ লোন এবং ইমরান আনসারিকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ।

ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিলের পর মেহবুবাকে শ্রীনগরের বাসভবন থেকে কিছুটা দূরের একটি সরকারি গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে আবদুল্লাহকে কোথায় নেয়া হয়েছে, তা সোমবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা উপত্যকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি

আজ সকালে রাজ্যসভায় কাশ্মিরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সম্মতিপত্র নিয়েই সংসদে হাজির হয়েছিলেন তিনি, যা একেবারেই ভারতের গণতান্ত্রিক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার পরিপন্থী বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বিরোধীরা। যদিও অমিত শাহ দাবি করেন, অস্থায়ী ৩৭০ ধারা বিলোপের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়নি। এতে উপত্যকাবাসীই উপকৃত হবেন।

নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ

অমিত শাহের ঘোষণার পরেই ওমর আব্দুল্লা তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে বলেন, ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারার অবলুপ্তি রাজ্যের স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেকারণ, ধারায় বিবৃত করা শর্ত অনুযায়ী, এটা করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত একতরফা, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক, এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স একে চ্যালেঞ্জ জানাবে। সামনে বড় এবং কঠিন লড়াই

অন্যদিকে মেহবুবা মুফতি এক টুইটে বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে আজকের দিনটি সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন। ১৯৪৭-এ দুটি দেশের তত্ত্ব খারিজ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত জম্মু কাশ্মিরের নেতারা নিয়েছিলেন, তা ঘুরে এসেছে। ভারত সরকারের, ৩৭০ নম্বর ধারার অবলুপ্তি ঘটানোর একতরফা সিদ্ধান্ত, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক

বিজেপি’র সঙ্গে জোট করে মেহবুবা একসময় জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী হলেও গত বছর জুনে সে জোট ভেঙে যায়। পতন হয় সরকারের। গত সপ্তাহে কেন্দ্র সরকার কাশ্মীরে সেনা বাড়াতে শুরু করলে মেহবুবা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কাশ্মিরের বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করতে মূল ভুমিকা নেন তিনি। 

কাশ্মিরে নিরাপত্তা ক্রমেই জোরদার হতে থাকার প্রেক্ষাপটে শনিবার সর্বদলীয় বৈঠক করেন মেহবুবা, ওমর আবদুল্লাহসহ অন্যান্যরা। এরপরই রোববার রাতে তাদেরকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল।

কাশ্মির নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের জেরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতেও সোমবার উপত্যকায় বাড়তি আধাসেনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা, স্কুল, কলেজ এবং অফিসও। জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বিনয় থুসু জানান, আগামী ৬ অগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের সমস্ত পরীক্ষা এবং ভর্তিও স্থগিত রাখা হচ্ছে#

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।