গান্ধীজির অহিংসার বাণী নিয়ে চলব, কারও উপদেশের দরকার নেই: মমতা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i74154-গান্ধীজির_অহিংসার_বাণী_নিয়ে_চলব_কারও_উপদেশের_দরকার_নেই_মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমরা গান্ধীজির অহিংসার বাণী নিয়ে চলব, কারও নতুন করে উপদেশ দেয়ার দরকার নেই।’ ভারতের জাতিরজনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর একশ’ পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) বিকেলে কোলকাতায় এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ০২, ২০১৯ ১৪:২৬ Asia/Dhaka
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমরা গান্ধীজির অহিংসার বাণী নিয়ে চলব, কারও নতুন করে উপদেশ দেয়ার দরকার নেই।’ ভারতের জাতিরজনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর একশ’ পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) বিকেলে কোলকাতায় এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।

মমতা বলেন, ‘গান্ধীজির যে প্রধান কথা, অহিংস আন্দোলন। অহিংসা, শান্তি ও মৈত্রীর শাশ্বত যে বাণী আমরা গান্ধীজির কাছ থেকে শিখেছি, সেই বাণী নিয়েই আমরা চলবো। ভারতবর্ষে কারও আর নতুন করে উপদেশ দেয়ার দরকার নেই। উপদেশ তারাই দিতে পারেন যারা উপদেশ দেয়ার মতো অধিকারী।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নেতা তারাই হন, যারা দেশের নেতা হওয়ার অধিকারী। দেশের নেতা কেমন হওয়া উচিত? গান্ধীজির মতো হওয়া উচিত। নেতাজির মতো হওয়া উচিত। তার কারণ তাঁরা দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব সম্প্রদায় সবাইকে নিয়ে। মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করা, মার, বিদ্বেষ করা, অশান্তির রক্ত ঝরানো কখনও কোনও দেশনেতার উদ্দেশ্য হতে পারে না। এই কথাটাই গান্ধীজি বার বার করে তার শিক্ষায়, দর্শনে, চিন্তাধারায় বলেছিলেন।’

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী এভাবে পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চেয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  

মমতা বলেন, ‘গান্ধীজি শান্তির জন্য চিরকাল শান্তি-মানবতা-অহিংসার জন্য, তাঁর স্বচ্ছ ধারণার জন্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্বাভাবিক চিন্তাধারার জন্য তিনি ভারতের মাটিতে শুধু নয়, আফ্রিকার মানুষরাও গান্ধীজিকে খুব ভালোবাসেন। সারা পৃথিবীতে যান, প্রত্যেকটা মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন তাঁর কর্মপ্রেরণার জন্য। কয়েকজন মানুষকে গোটা পৃথিবীর মানুষ যাঁদেরকে সম্মান করেন তার মধ্যে গান্ধীজি হলেন অন্যতম। সুতরাং, ‘গান্ধীজি’-‘বাপুজি’ জাতির নেতা, জাতির পিতা, জাতির মহাননেতা যা-ই আমরা বলি না কেন, মনে রাখবেন গান্ধীজির চিন্তাধারা, গান্ধীজির শিক্ষা, গান্ধীজির দর্শন, ডাণ্ডি অভিযান, অহিংস আন্দোলন, লবন সত্যাগ্রহ আন্দোলন গান্ধীজির প্রত্যেকটা আন্দোলনে আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। গণতন্ত্রকে মজবুত করে। এবং সর্বধর্ম, বর্ণ, সবশ্রেণির মানুষকে নিয়ে এক পরম্পরায় কাজ করতে শিখিয়েছে ঐক্যবদ্ধ ভারতবর্ষ। ধর্মনিরপেক্ষ, শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি সব কিছু নিয়ে।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সকলকে গান্ধীজির আদর্শে পথ চলার আহ্বান জানান।#             

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।