ভারতে নোট বাতিলের ৩ বছর: মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা, দিল্লিতে বিক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i75088-ভারতে_নোট_বাতিলের_৩_বছর_মোদি_সরকারের_কড়া_সমালোচনা_দিল্লিতে_বিক্ষোভ
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী নোট বাতিলের ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন। নোট বাতিলের তিন বছর পূর্তিতে আজ (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাহুল গান্ধী বলেন, এজন্য দায়ীদের এখনও শাস্তি দেওয়া হয়নি।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৮, ২০১৯ ১৪:২৪ Asia/Dhaka
  • নরেন্দ্র মোদি
    নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী নোট বাতিলের ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন। নোট বাতিলের তিন বছর পূর্তিতে আজ (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাহুল গান্ধী বলেন, এজন্য দায়ীদের এখনও শাস্তি দেওয়া হয়নি।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকা পাঁচশ’ ও এক হাজার টাকার নোট বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন। 

রাহুল গান্ধী আজ বলেন, ‘নোট বাতিল সন্ত্রাসী হামলার তিন বছর পেরিয়ে গেছে যা ভারতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে, অনেক মানুষের প্রাণ নিয়েছে, বহু ছোট ব্যবসা শেষ করে দিয়েছে এবং লাখ লাখ ভারতীয়কে কর্মহীন করে দিয়েছে। এই ভয়াবহ হামলার পিছনে যারা দায়ী তাঁদের এখনও সাজা হয়নি।’

রাহুল গান্ধী

এদিকে, কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সুর্যেওয়ালা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে তাঁকে 'আজকের তুঘলক' বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘সুলতান মুহাম্মাদ বিন তুঘলক ১৩৩০ সালে দেশের মুদ্রাকে অকেজো ঘোষণা করেছিলেন। ‘আজকের তুঘলক’ও ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর একই কাজ করেছিল। ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশবাসী ভুগছে কারণ অর্থনীতি ধসে পড়েছে, কর্মসংস্থান হারিয়েছে। সন্ত্রাসবাদও থামেনি, জাল নোটের কারবারও বন্ধ হয়নি। তাহলে এজন্য দায়ী কে?’ 

তিনি নোট বাতিলের ঘটনাকে 'মানবরচিত এক ভয়াবহ বিপর্যয়' ছিল বলেও অভিহিত করেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নোট বাতিলের তিন বছর পূর্তিতে বলেছেন, ‘২০১৬ সালে আজকের দিনে নোটবন্দি চালু করা হয়। ওই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বলেছিলাম দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন এরফলে বিঘ্নিত হবে। এখন বিশ্বের তাবড় অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞ সবাই একই কথা বলছেন। সেই দিন অর্থনীতির বিপর্যয় শুরু হয়েছিল আর আজ দেখুন কী পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ব্যাংক সংকটে, অর্থনীতি মন্দায়। কৃষক থেকে শ্রমিক,  ছাত্র থেকে যুব, ব্যবসায়ী থেকে গৃহবধূ সকলেই ভুক্তভোগী।’

দিল্লিতে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ

এদিকে, আজ নোট বাতিলের তৃতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। পুলিশ এতে বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশকে বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী বিক্ষোভকারীকে টেনেহিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যেতে হয়। 

 

ড. গৌতম পাল

এ সম্পর্কে আজ (শুক্রবার) পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ড. গৌতম পাল রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘নোট বাতিলের ফলে বিগত তিন বছরে আমার মতো আমজনতার যে অভিজ্ঞতা, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে, আমাদের সারা ভারতের যে অর্থনীতি, সেই অর্থনীতির কোনও অগ্রগতি ঘটেনি। কী করে আমরা তা বুঝলাম। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কাজের সুযোগ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে বিভিন্ন কলকারখানা, বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান তারা কর্মসংস্থানের সুযোগকে সঙ্কোচন করছেন। এরফলে অনেক মানুষ তার কাজ হারিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ব্যাঙ্কে সাধারণ মানুষ টাকা গচ্ছিত রেখে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না যে সেই টাকা তারা আদৌ ফেরত পাবেন কিনা। অর্থাৎ ব্যাঙ্কের যে সঞ্চিত অর্থ সেই অর্থের ওপরে মানুষের অধিকার ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি জিনিষপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। জিনিষপত্রের দাম বেড়ে গেছে। কালো টাকার আন্ডারগ্রাউন্ড লেনদেন কী ভারতে বন্ধ হয়েছে? অথচ টাকা বাতিলের ফলে আমাদের কোষাগার থেকে প্রায় ষোলো হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে নতুন নোট ছাপাতে! অথচ ওই টাকাটা আমরা জনগণের সেবায় নিয়োজিত করতে পারতাম অর্থাৎ আমাদের অর্থনীতির উন্নতির জন্য ব্যয় করতে পারতাম। সেটা আমরা করতে পারিনি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি নোট বাতিলের এই যে তিন বছর পূর্ণ হল, সারা ভারতে সমষ্টিগতভাবে অর্থনৈতিক যে কাঠামো সেই কাঠামো ভেঙে গেছে। আগামী বছরগুলোতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির কোনও উন্নতির সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করছি না।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।